বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক গৃহবধূ ও এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মোরেলগঞ্জ থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই দিন মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা হলেন আবু মুসা হাওলাদার, তার স্ত্রী সালমা বেগম, সালমার ভাই আলম খলিফা এবং তার ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম খলিফা। এছাড়া আরও এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবু মুসা হাওলাদার তার কবলাকৃত সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তবে একই এলাকার ছালেহ আহম্মদ গাজী ও তার সহযোগীরা ওই জমির ওপর দাবি করে বিভিন্ন সময় জবরদখলের চেষ্টা, হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করে আসছিলেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সকালে আবু মুসা হাওলাদার ও তার স্ত্রী বাড়ির চারপাশে বেড়া দেওয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় ছালেহ আহম্মদ গাজী ও তার সহযোগীরা লোহার রড, দা, শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে গালাগালি ও হুমকি দিতে থাকেন। সালমা বেগম তাদের গালমন্দ করতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা একযোগে হামলা চালায়।
পরে সালমা বেগমকে উদ্ধার করতে তার স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিরা হলেন ছালেহ আহম্মদ গাজী, মেহেদী গাজী, রফিকুল গাজী, পাখি বেগম, তামান্না আক্তার ও হুমায়ুন গাজী।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু মুসা হাওলাদার বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-১০। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
আরবিএন