আগামী ১৪ জুন দুই দিনের সফরে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকালে তিনি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলায় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রেস সেক্রেটারি সাফওয়ানুল করিম গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সাফওয়ানুল করিম জানান, দুই দিনের এই বিশেষ সফরে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন, বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং চকরিয়ায় আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন।
সরকারের সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং একই সঙ্গে পার্কের বিভিন্ন এলাকা ও জীববৈচিত্র্য পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি পেকুয়া উপজেলার উদ্দেশে সড়কপথে রওনা হয়ে সেখানে গিয়ে ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ ওয়াসিমের পবিত্র কবর জিয়ারত ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া পৌরসভার নবগঠিত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করবেন।
পেকুয়ার নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পৈতৃক গ্রামের বাড়ি ‘সাঈদ ম্যানশন’ এ বিশেষ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় চকরিয়ায় গিয়ে নবগঠিত ‘মাতামুহুরী’ উপজেলার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করবেন।
এর ঠিক পরেই বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। জনসভা সমাপ্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কক্সবাজার জেলা সদরে ফিরে আসবেন এবং সেখানে নির্ধারিত সার্কিট হাউজে বা সরকারি আবাসে নৈশকালীন রাত যাপন করবেন।
সরকারি সফরসূচির দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ পরদিন ১৫ জুন সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময় সভা শেষ করার পর দুপুর নাগাদ তিনি বিমানযোগে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
সময়ের আলো/টিএইচ