বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারায় দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।
রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে যারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে হবে।
আরও পড়ুন
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বর্তমান যুগকে ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে। অনেক পুরোনো পেশা বিলুপ্ত হলেও নতুন খাতে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা ও প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষাই ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এ জন্য পাঠ্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও আর্থিক জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতের অর্থনীতি গঠনে বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কারিকুলাম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার দিকে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ২ হাজারের বেশি কলেজ ও বিপুল শিক্ষার্থীর কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির গতিশীলতার প্রধান চালিকাশক্তি।
তারেক রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষে অনেক শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান না পাওয়ার অন্যতম কারণ বাস্তব দক্ষতার অভাব। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং শিল্প–শিক্ষা সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময়ই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত না করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী প্রকল্পে সিড ফান্ড ও ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, এতে তরুণরা নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।
প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা অপরিহার্য। একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার চলমান সংস্কার দেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং বাংলাদেশকে একটি দক্ষ ও উদ্ভাবনী জাতিতে পরিণত করবে।
এএডি/