দেশে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা বিগত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে এই চিত্র উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এ নিয়ে টানা দুই মাস ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে মে মাসের মূল্যস্ফীতিতে। মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর জীবনযাত্রার খরচের চাপ আরেক দফা বাড়ল। রোববার (৭ জুন) বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের এই মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম :
গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। গত ১৯ এপ্রিল প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়। এরপর গত ৩১ মে আবারও এক দফা দাম বাড়ানো হলেও তা মে মাসের মূল্যস্ফীতি গণনায় প্রভাব ফেলার সময় পায়নি। তবে এর সাথে গত সপ্তাহে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে চলতি জুন মাসে মূল্যস্ফীতির গ্রাফ আরও ওপরের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে চাপ :
বিবিএসের হিসাব অনুসারে, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে। গ্রাম কিংবা শহর— সবখানেই এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়ে, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, বাড়ছে ভোগান্তি :
মূল্যস্ফীতির এই লাগামহীন দৌড়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষ। মে মাসে যেখানে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, সেখানে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এর সহজ অর্থ হলো— মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, ব্যয় বাড়ছে তার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে শাকসবজি, মাছ-মাংসের পাশাপাশি চালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে না পেরে সাধারণ মানুষ এখন খাবার, কাপড়চোপড় ও যাতায়াতসহ নিত্যদিনের বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন; কিংবা সংসার চালাতে বেছে নিচ্ছেন ধারদেনার পথ।
সময়ের আলো/জেডি