সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। বীমা কোম্পানিগুলোর দাপটের প্রেক্ষিতে পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে শেয়ারবাজার।
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ঢালাও দরপতনের পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলল।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। এতে লেনদেনের শুরুতে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে প্রথম দেড় ঘণ্টার লেনদেন শেষ বীমা বাদে অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। অবশ্য এর মধ্যেও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট ধরে রাখে বীমা কোম্পানিগুলো। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। লেনদেনের শেষ আধাঘণ্টায় বীমার সঙ্গে অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানিও দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৯টির এবং ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫১টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে।
বিপরীতে দাম কমেছে ১৭টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬১টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আর ২০টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৫৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমএল ডাইংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৬ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং মালেক স্পিনিং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৯টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি