ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ১ দশমিক ৩২ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে ওঠে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান শান্তি প্রস্তাব দেয়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় তেহরান। শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে পারেন।
এদিকে ইরান ও হুতিদের হামলার কারণে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এএনজেডের বিশ্লেষকেরা। এক নোটে তারা বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে।
শনিবার ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন তারা বাধা দিয়েছে।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ রপ্তানি।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি বাড়ানোর ফলে এই বৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও পুনরুদ্ধার হয়েছে।
কেপলারের তথ্য বলছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন দৈনিক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর সেটির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে কিছু রপ্তানি পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরের দিকে সরিয়ে নেয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড মূল্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে এএনজেডের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠায় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে দেশটির বাইরে সরবরাহ সংকুচিত হতে পারে। এরই মধ্যে ইউরোপের বাজারে সম্ভাব্য মার্কিন সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ