অবৈধ অভিবাসন, অননুমোদিত কর্মসংস্থান এবং আবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান জোরদার করেছে সৌদি আরব। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত সাম্প্রতিক অভিযানে হাজারো প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে এবং কয়েক হাজার ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে মোট ৭ হাজার ৭৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন আবাসন আইন লঙ্ঘনকারী। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাদের সংখ্যা ২১ হাজারেরও বেশি। এদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হলেও নারী প্রবাসীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
সীমান্ত নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি। অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অনেককেই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের দেশত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে শুধু অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, পরিবহন সুবিধা দেওয়া কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অবস্থানে সহযোগিতা করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন অপরাধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিতে উৎসাহিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এএডি/