বাবাকে হারানোর বেদনা ও বাস্তুচ্যুতির মাঝেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেরা গাজার সাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গাজায় যুদ্ধ, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন ১৮ বছর বয়সী সাবা রাবাহ। ফিলিস্তিনের জাতীয়

2026-07-27T21:05:55+00:00
2026-07-27T21:05:55+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বাবাকে হারানোর বেদনা ও বাস্তুচ্যুতির মাঝেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেরা গাজার সাবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম 
‘তাওজিহি’র বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দেশসেরা শিক্ষার্থী হয়েছেন সাবা। ছবি : আরব নিউজ
গাজায় যুদ্ধ, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন ১৮ বছর বয়সী সাবা রাবাহ। ফিলিস্তিনের জাতীয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ‘তাওজিহি’র বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দেশসেরা শিক্ষার্থী হয়েছেন তিনি।

মধ্য গাজার আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা সাবার জীবনে পরীক্ষার আগ মুহূর্তেও নেমে আসে বিপর্যয়। চূড়ান্ত পরীক্ষার কয়েক দিন আগে তার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের বিপরীত পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলা হয়। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সঙ্গে আবারও ঘর ছাড়তে হয় তাকে। পেছনে ফেলে আসতে হয় নিজেদের শেষ সম্বলটুকুও। 

তবে যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও পড়াশোনার পথ থেকে সরে যাননি সাবা। এবারের তাওজিহি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে তিনি পেয়েছেন ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর, যা তাকে পুরো ফিলিস্তিনের মধ্যে প্রথম স্থান এনে দিয়েছে। 

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে সাবা বলেন, আমি ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছি এবং বিজ্ঞান বিভাগে পুরো দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছি। 

ফল প্রকাশের পর আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে সাবাকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। গ্র্যাজুয়েশন পোশাক পরে বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ফুল গ্রহণ করেন তিনি। তবে এই আনন্দের মুহূর্তেও তার সাফল্যের পেছনে থাকা বাবাকে হারানোর বেদনা স্পষ্ট ছিল। 

যুদ্ধের মধ্যেই পড়াশোনার লড়াই

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। ইসরায়েলি হামলায় গাজার অধিকাংশ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্কুল ভবন পরে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তিন বছর পর প্রথমবারের মতো এবারের তাওজিহি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে থাকা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে।

এ বছর প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন সাবা।

বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে সাবা

সাবার বাবা ফায়েদ রাবাহ জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সাবা জানান, ২০২৪ সালের জুনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হন।

বাবাকে হারানোর আগেই পরিবারটিকে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনী আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে প্রবেশের পর তারা কয়েকবার ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাদের বাড়িও ধ্বংস হয়ে যায়।

বাবার মৃত্যুর পরও বাস্তুচ্যুতির এই কঠিন যাত্রা চলতে থাকে। সাবা বলেন, আমরা এতবার বাস্তুচ্যুত হয়েছি যে এখন আর সঠিক সংখ্যা মনে নেই। 

তিনি বলেন, এত বাস্তুচ্যুতি ও ভয় ছিল... আমাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি আমার বইয়ের অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছি, কিন্তু কখনো আমার লক্ষ্য ছেড়ে দিইনি। 


বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংকটেও চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি

পরীক্ষার সময়ও নিরাপদ ছিলেন না সাবা। পরীক্ষার কয়েক দিন আগে পাশের বাড়িতে বোমা হামলার পর তাকে ও তার পরিবারকে আবারও স্থান পরিবর্তন করতে হয়।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও ইন্টারনেট সমস্যার কারণে পড়াশোনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কখনো ব্যক্তিগত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে অন্য এলাকায় যেতে হয়েছে। প্রতিটি যাত্রাপথেই ছিল নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা।

সাবার স্বপ্ন এখন চিকিৎসক হওয়া। তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হওয়া। এটি আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমার জন্য। 

চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় আশা বলেও জানান সাবা।

শোকের পর পরিবারে ফিরেছে আনন্দ

সাবার মা ৫২ বছর বয়সী ফেরিয়াল আহমেদ রাবাহ বলেন, দীর্ঘ শোক ও কষ্টের পর মেয়ের সাফল্য তাদের পরিবারে নতুন আনন্দ ফিরিয়ে এনেছে।

তিনি জানান, অনেক সময় মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় পড়াশোনা করতে হয়েছে সাবাকে।

এএফপিকে তিনি বলেন, এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি আশা করেছিলাম সে সেরা শিক্ষার্থীদের একজন হবে, কিন্তু সে পুরো ফিলিস্তিনের সেরা শিক্ষার্থী হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ, বাবার মৃত্যু এবং বারবার বাস্তুচ্যুতির মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সাবার এই অর্জন তাদের জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ




  বিষয়:   ফিলিস্তিন  উচ্চ মাধ্যমিক 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: