৯/১১ : শুধুই একটি তারিখ নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্কের সেই সকালে সবকিছু চলছিল রোজকার নিয়ম মেনে। কর্মজীবীর অফিস যাত্রা, শিক্ষার্থীর স্কুলের পথ ধরা, ট্র্যাফিক জ্যামের ফাঁদ। নতুন কিছু

2026-09-11T11:27:59+00:00
2026-09-11T11:37:12+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৯/১১ : শুধুই একটি তারিখ নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ এএম  আপডেট: ১১.০৯.২০২৬ ১১:৩৭ এএম
ফাইল ছবি
নিউইয়র্কের সেই সকালে সবকিছু চলছিল রোজকার নিয়ম মেনে। কর্মজীবীর অফিস যাত্রা, শিক্ষার্থীর স্কুলের পথ ধরা, ট্র্যাফিক জ্যামের ফাঁদ। নতুন কিছু তখন পর্যন্ত ঘটেনি। ঘড়ির কাঁটায় ৮টা ৪৬ বাজার আগের সেকেন্ডেও কারও কল্পনায় ছিল না, এক মুহূর্ত পর কী ঘটতে চলেছে! কিছু ঘটনা শুধু ঘটে না, সময়ের সঙ্গে আরও বড় হয়ে ওঠে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরও তেমন। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু ধ্বংস হয়েছিল তার চেয়েও বেশি কিছু! নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো ধারণা, যুদ্ধের প্রচলিত হিসাব এবং বিশ্বরাজনীতির বহু পরিচিত সমীকরণ পাল্টে গেছে চিরতরে।

চারটি বিমান, একটি মিশন
সেদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল থেকে ক্যালিফোর্নিয়াগামী চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করা হয়। এগুলো ছিল আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ ও ৭৭ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ ও ৯৩। চার বিমানেই ছিল মোট ১৯ জন ছিনতাইকারী, যারা আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে ফ্লাইট-১১ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত করে। প্রথমে অনেকে এটিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা মনে করেছিলেন। ১৭ মিনিট পর সেই ভুল ভাঙে। সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ফ্লাইট-১৭৫ আঘাত করে দক্ষিণ টাওয়ারে। এবার টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত সেই দৃশ্য জানিয়ে দেয়, এটি দুর্ঘটনা নয়, সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা!

ধ্বংসলীলার এক ভয়ংকর আখ্যান
নিউইয়র্কে তখন হাজার হাজার মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা। কেউ নিচে নামার চেষ্টা করছেন, কেউ স্বজনকে ফোন করছেন। দমকলকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবার কর্মীরা এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের উদ্ধারে। এর মধ্যেই আরেকটি বিমান ছুটে যায় রাজধানীর দিকে। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট-৭৭ আঘাত হানে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে। নিউইয়র্কে তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে ধসে পড়ে দক্ষিণ টাওয়ার। ২৯ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে পতন ঘটে উত্তর টাওয়ারেরও। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ম্যানহাটনের ঝলমলে আকাশ বদলে যায় ধোঁয়া আর ধুলোর চাদরে।


দ্য লাস্ট ফ্লাইট
চতুর্থ বিমানটি ছিল ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট-৯৩। অন্য হামলাগুলোর খবর যাত্রীরা জেনে গিয়েছিলেন। ফোনে পাওয়া তথ্য থেকে তারা বুঝতে পারেন, বিমানটিও ছিনতাইকারীদের হাতে এবং বড় কোনো লক্ষ্যবস্তুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই প্রতিরোধের মধ্যেই সকাল ১০টা ৩ মিনিটে বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। যাত্রীদের সেই প্রতিরোধ ৯/১১-এর সবচেয়ে শক্তিশালী মানবিক গল্পগুলোর একটি হয়ে আছে।

শেষ হয়েও হয়নি শেষ
১৯ ছিনতাইকারী বাদ দিলে ৯/১১ হামলায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৯৭৭ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিমানের যাত্রী ও ক্রু, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনের কর্মী এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দমকলকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা। তবে মৃত্যুর হিসাব থেমে যায়নি। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বহু মানুষ বিষাক্ত ধুলো ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৯/১১-এর পর উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আজও চলমান।


বিশ্বকে বদলে দেওয়া একটি দিন
হামলার পেছনে ছিল আল-কায়েদা। সংগঠনটির নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী সময়ে বিন লাদেন নিজেও হামলা সংগঠনে নিজের ভূমিকা স্বীকার করেন। এরপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ। আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানো হয় আল-কায়েদার বিরুদ্ধে। ৯/১১-পরবর্তী সময়ে বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নীতিতেও আসে বড় পরিবর্তন। পরবর্তী সময়ে ইরাক যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা সংঘাতও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে ৯/১১ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস নয়, হয়ে ওঠে একবিংশ শতকের বিশ্বরাজনীতির অন্যতম বাঁকবদলের ঘটনা।

২৫ বছরেও কাটেনি বিভীষিকা
নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে ৯/১১ মেমোরিয়ালে নিহতদের নাম খোদাই করা আছে। কিন্তু নামগুলো শুধু স্মৃতির ফলক নয়, প্রতিটির পেছনে ছিল একটি পরিবার, একটি জীবন ও কিছু অসমাপ্ত পরিকল্পনা। ২৫ বছর পরও তাই ১১ সেপ্টেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়। 

সময়ের আলো/জেকিউএফ
  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  ৯/১১  হামলা 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: