ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। হৃদ্রোগের অবনতি হওয়ায় কারাগারের পরিবর্তে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দিত্বে রেখে বিচার কার্যক্রম চালানোর আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় হৃদ্রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার জন্য যে পরিবেশ দরকার, তা আটককেন্দ্রে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আবেদনে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর মাদুরো ও ফ্লোরেসকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। এর আগে ফ্লোরেস শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত কোনো ওষুধও সেবন করতেন না। শুধু হৃদ্যন্ত্রের মাইট্রাল ভালভের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ইনজেকশন নিতেন তিনি।
তবে বর্তমানে ফ্লোরেসকে চার ধরনের ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদ্যন্ত্র পরীক্ষা এবং অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।
আইনজীবীরা জানান, বাইরের চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার পর তাদের ধারণা, গত ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ফ্লোরেসের ছোট ধরনের হৃদ্রোগের আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। তার মাইট্রাল ভালভের সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর ফ্লোরেস তার প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশন পাননি। পরিবর্তে তাঁকে বেবি অ্যাসপিরিন, স্ট্যাটিন, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা হৃদ্যন্ত্রের একটি প্রক্রিয়া করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার পর আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসার পর সুস্থ হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন বলে আদালতে যুক্তি দিয়েছেন ফ্লোরেসের আইনজীবীরা।
তবে আবেদনে তাঁরা স্বীকার করেছেন, ফ্লোরেস আটককেন্দ্রে চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘চমৎকার সেবা’ পেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, চিকিৎসাসেবা পেলেও অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ আটককেন্দ্রে নেই।
আইনজীবীরা প্রস্তাব দিয়েছেন, ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফ্লোরেসকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত এলাকার একটি বাসায় স্থানান্তর করা হোক। আগামী বছরের জুনে ওই আদালতেই মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিচার শুরু হওয়ার কথা।
গৃহবন্দিত্বের আওতায় ফ্লোরেসকে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। বাড়িতে ভিডিও নজরদারি থাকবে এবং তাঁর ফোনালাপ রেকর্ড করা হবে।
তবে ফ্লোরেসের এই আবেদন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন।
৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস ও ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে তাদের বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর থেকে দেশটির হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রসহ তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ