সন্ত্রাসী হামলার পুরোনো ধরণ মোকাবিলায় অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে নতুন ধরনের হুমকির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনকি ২০০১ সালের ৯/১১-এর মতো বড় কোনো কৌশলগত হামলার প্রস্তুতি এমন জায়গায় চলতে পারে, যেদিকে এখনো নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজর পড়েনি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রধান কেন ম্যাককালাম।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য ইনডিপেনডেন্টে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় তিনি এসব কথা বলেন।
ম্যাককালাম বলেন, পরবর্তী বড় ধরনের নিরাপত্তা ধাক্কা আগেরটির মতো হবে না— এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাই অতীতের হামলা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি গতকালের শত্রু, পুরোনো পদ্ধতি ও পুরোনো লক্ষ্য ধরে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি লেখেন, ‘পরবর্তী বড় কৌশলগত ধাক্কা হয়তো এমন কোনো জায়গায় ইতিমধ্যে তৈরি হচ্ছে, যেদিকে আমরা এখনো তাকাচ্ছি না।’
এমআই৫ প্রধান বলেন, আল-কায়েদা আগের তুলনায় দুর্বল হলেও এখনো হুমকি হয়ে আছে। একই সঙ্গে এই সংগঠনসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে বড় ধরনের হামলার আকাঙ্ক্ষাও রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ম্যানচেস্টারে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর বন্দুক হামলা চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যার একটি ইসলামপন্থী ষড়যন্ত্র সম্প্রতি নস্যাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনা দেখিয়েছে, বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার ঝুঁকি এখনো রয়েছে।
তবে সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি রাষ্ট্র-সমর্থিত আগ্রাসনও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন ম্যাককালাম। তার মতে, অপরাধীদের ব্যবহার করে নাশকতা চালানো থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সাইবার হামলা— বিভিন্নভাবে এই হুমকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ও সেবা বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ফলে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
ম্যাককালামের জানান, কোনো নতুন বড় সংকট দেখা দেওয়ার পর তখন যেন খুঁজে বের করতে না হয় কোন দুর্বলতার মালিক কে, কার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কিংবা কাকে ফোন করা উচিত।
৯/১১-এর নিহতদের স্মরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতের হামলা ঠেকাতে প্রস্তুতি, সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সাহস দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে দুটি নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে এবং একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত হানে। প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
সময়ের আলো/কেএইচ