আসন্ন নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোবাইল ফোনের নতুন সিম কার্ড কেনার ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকেরা এখন থেকে আরও অনেক কম খরচে নতুন মোবাইল সিম কার্ড কিনতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটের মোট সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি খাতকে একটি অন্যতম ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর, ভ্যাট এবং লাইসেন্সিং নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে টেলিকম খাতে মোট করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
এই খাতের দ্রুত বিকাশ ও আধুনিকায়নের স্বার্থেই সরকার এই উচ্চ করের হার ক্রমান্বয়ে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিম ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব কম আদায় হতে পারে।
বাজেটের এই বিশেষ কর ছাড়ের বিষয়ে বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে এবারের বাজেটে সিম ট্যাক্স তুলে দেওয়া বা মোবাইল অপারেটরদের কিছু বাড়তি কর-সুবিধা দেওয়ার কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ হয়তো বৃদ্ধি পাবে। তবে সাধারণ ভোক্তা বা গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ কিংবা মোবাইল কলরেট কমার মতো কোনো সরাসরি সুবিধা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটবে বলে তিনি মনে করছেন না।
অন্যদিকে দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের প্রধান সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম এই কর ছাড়ের যৌক্তিকতা নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি হলেও বর্তমানে সচল ও বৈধ সিমের সংখ্যা প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ কোটিতে গিয়ে পৌঁছেছে।
এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে এই টেলিকম খাতটি ইতিমধ্যে দেশে একটি সম্পূর্ণ পরিণত বা পরিপক্ব অবস্থায় চলে এসেছে। তাই এই খাতে নতুন করে এই ধরনের অতিরিক্ত কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার খুব একটা বড় যৌক্তিকতা নেই।
আইএসপিএবি সভাপতি আরও উল্লেখ করেন যে দেশের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড বা বাসাবাড়ির ইন্টারনেট খাতে এখনো মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ মানুষের প্রবেশাধিকার রয়েছে। অথচ সম্ভাবনাময় এই খাতের প্রসারের জন্য বাজেটে ভ্যাট, কর বা কোনো ধরনের বিশেষ সরকারি প্রণোদনার কথা বলা হচ্ছে না। তার মতে পুরো বিষয়টি অনেকটা ‘তেলে মাথায় তেল দেওয়ার’ মতো হয়েছে, যেখানে মূলত শক্তিশালী লবিং করার সক্ষমতা থাকার কারণে বড় বড় মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোই সরকারের সব বড় সুবিধা লুফে নিয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ