চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের নাগরিকদের বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশীয় মুদ্রার হিসাবে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২২ টাকা ১৫ পয়সা বিবেচনা করে এই হিসাব করা হয়েছে।
আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার, যার অর্থ বিগত এক বছরের ব্যবধানে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ‘বিবিএস’ কর্তৃক প্রকাশিত জিডিপির সর্বশেষ সাময়িক খতিয়ানে আজ বুধবার বিকেলে এই ইতিবাচক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বিবিএসের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে দেশে প্রতিবছরই ক্রমান্বয়ে নাগরিক আয়ের গড় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৩৮ মার্কিন ডলার।
মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির সামগ্রিক আকারও ৪৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বর্তমান জিডিপির মোট আর্থিক মূল্য ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় সর্বমোট ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে আগের অর্থবছরে জিডিপির মোট আর্থিক আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা।
জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাময়িক হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে। এই প্রবৃদ্ধির হারটি পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক ও বেশি। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির এই অগ্রগতির মধ্যেও দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে একটি নিম্নমুখী বা মন্থর প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
উৎপাদন ও খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই ইতিবাচক ধারাটি বেশ ভালোভাবেই বজায় রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষি খাতের মোট প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এই হারটি আগের অর্থবছরের কৃষি খাতের অর্জিত ২ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।
সময়ের আলো/টিএইচ