দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ দুটি পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সুপারিশকৃত প্রস্তাবনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও শিল্প কারখানার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর নির্দিষ্ট ধারা মেনে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বিধি ১০৫-এর উপবিধি (৩) এর দফা (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক কোটেশন আহ্বান করা হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’।
আন্তর্জাতিক এ কোটেশনের আওতায় আগামী ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট ২০২৬ সময়সীমার জন্য দেশের ৪২তম কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার। এতে সব মিলিয়ে মোট সরকারি অর্থ ব্যয় হবে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ১৮৪ টাকা, যার মধ্যে প্রয়োজনীয় অগ্রিম আয়কর অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
অন্য এক প্রস্তাবে, দেশের কৃষি উৎপাদন জোরদার রাখা ও কৃষক পর্যায়ে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম লটের সার ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের স্বনামধন্য সার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে এ সারের প্রথম চালান সংগৃহীত হবে।
অনুমোদিত এই চুক্তির আওতায় কাফকোর কাছ থেকে মোট ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করবে সরকার। প্রতি মেট্রিক টন সারের আন্তর্জাতিক বাজার দর ৩৫৭ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার হিসেবে এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ৬২৫ টাকা।
সরকারের এই সমন্বিত সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হয়ে শিল্প খাতের জ্বালানি সংকট কিছুটা হ্রাস পাবে, অন্যদিকে আসন্ন মৌসুমে দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার গতি ত্বরান্বিত করতে সার সরবরাহ সচল থাকবে।
সময়ের আলো/জেডি