টেসলার চীনভিত্তিক ব্যবসা আলাদা করা বা বিক্রির প্রস্তুতি চলছে— এমন প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তিনি এ দাবিকে ‘অত্যন্ত ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে দাবি করে, মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর সঙ্গে সম্ভাব্য একীভূতকরণের আগে টেসলার চীন ব্যবসাকে আলাদা করার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে ছিল চীন ব্যবসা পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন (স্পিন-অফ), বিক্রি কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।
এ ছাড়া সাংহাই কারখানা থেকে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা বিক্রয় ইউনিট গঠন এবং চীনভিত্তিক কর্মীদের অন্যান্য ইউনিটের তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার বিষয়ও আলোচনায় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ইলন মাস্ক লিখেছেন, এ ধরনের বিষয় কখনো কোনো আলোচনাতেই ওঠেনি। এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর ও ভুয়া খবর।
বিশ্লেষকদের মতে, টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত হলে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার মুখে পড়তে পারে। কারণ স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ঠিকাদার, অন্যদিকে টেসলা চীনে শতভাগ মালিকানাধীন উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
দীর্ঘদিন ধরেই মাস্কের দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও প্রক্রিয়া শুরুর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়। চলতি মাসের শুরুতে মাস্ক নিজেও সম্ভাবনাটি পুরোপুরি নাকচ করেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কথা বিবেচনায় রেখে টেসলার যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ব্যবসাকে আলাদাভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন মাস্ক, যাতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলেও অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়।
বর্তমানে টেসলার সাংহাই গিগাফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় উৎপাদন কেন্দ্র। বছরে ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি গাড়ি উৎপাদন সক্ষমতা থাকা এ কারখানা ইউরোপ, কানাডা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। টেসলার বৈশ্বিক গাড়ি সরবরাহের অর্ধেকেরও বেশি আসে এই কারখানা থেকে।
চীন যুক্তরাষ্ট্রের পর টেসলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। তবে দেশটিতে স্থানীয় নির্মাতা বিওয়াইডিসহ অন্যান্য কোম্পানির তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
টেসলা জানিয়েছে, চীনে তৈরি মডেল ৩ এবং নতুন সংস্করণের মডেল ওয়াই-এ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ৯৫ শতাংশের বেশি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। জুন মাসে চীনে উৎপাদিত এই দুই মডেলের সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাংহাই কারখানা থেকে বিক্রি ও রপ্তানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ।
সময়ের আলো/কেএইচ