ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজার সংস্কারেই মনোযোগী সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির এক চরম বাস্তবতায় জাতীয় সংসদে আগামীকাল উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার

2026-06-10T22:15:01+00:00
2026-06-10T22:33:23+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭
ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজার সংস্কারেই মনোযোগী সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম  আপডেট: ১০.০৬.২০২৬ ১০:৩৩ পিএম  (ভিজিট : ২৩)
প্রতীকী ছবি
বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির এক চরম বাস্তবতায় জাতীয় সংসদে আগামীকাল উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বাজেটে আর্থিক খাতের স্টেকহোল্ডাররা সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি করপোরেট কর হ্রাস, সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ সীমা বাতিলসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে বিভিন্ন দাবি ইতোপূর্বে পেশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দেশের আর্থিক খাতের চার প্রধান স্তম্ভ- ব্যাংক, বীমা, পুঁজিবাজার এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তবে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, এবারের বাজেটে ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপে গুরুত্ব দেবে সরকার।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটানোর তাগিদ- এই দুয়ের যাঁতাকলে পড়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরকে এক কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। খাতের অংশীজনরা যখন করপোরেট কর হ্রাস ও দ্বৈত করমুক্ত সুবিধার দাবি তুলছেন, সরকার তখন বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ছক কষছে।

ব্যাংক খাত: তারল্য সুরক্ষা বনাম সরকারের ঋণ-নির্ভরতা

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ফুসফুস বলা চলে ব্যাংকিং খাতকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ এবং ডলার সংকটের কারণে এই খাতটি বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সরকারের কাছে বড় ধরনের কর কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।

করপোরেট করের বোঝা কমানো
বর্তমানে ব্যাংক খাতের ওপর আরোপিত করপোরেট করের হার ৩৭.৫%, যা অন্যান্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশ বেশি। এবিবি ও বিএবি এই করহার এক লাফে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামানোর জোর দাবি জানিয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো তাদের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে।

খেলাপি ঋণের প্রভিশনে কর ছাড়
ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ খেলাপি ঋণ। নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হয়। ব্যাংকারদের দাবি, এই প্রভিশনের ওপর কর আরোপ না করে একে ‘অনুমোদনযোগ্য ব্যয়’ হিসেবে গণ্য করা হোক।

সরকারি সিকিউরিটিজে উন্মুক্ত বিনিয়োগ
ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে ৫ লাখ টাকার যে কর-রেয়াতযোগ্য সীমা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্ড থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফা সম্পূর্ণ করমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা শিথিলকরণ
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং চ্যানেলে ধরে রাখতে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানত বা ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (পিএসআর) দাখিলের নিয়মটি শিথিল করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
এনবিআর সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, সরকার ব্যাংক খাতের করপোরেট করের দাবিটি আংশিক মেনে নেওয়ার কথা ভাবছে। এক্ষেত্রে একবারেই ৭.৫ শতাংশ না কমিয়ে আগামী বাজেটে ব্যাংক খাতের করপোরেট কর ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। তবে নীতিনির্ধারণী সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এবারের বাজেটে করপোরেট কর হার হ্রাসের কোন চিন্তাভাবনা নেই সরকারের। ফলে এটি আগের মতোই থাকবে। তবে আগামী বছর থেকে ধীরে ধীরে কমানো হতে পারে এই করহার। একইসঙ্গে ব্যাংক স্থিতি ৩ লাখ টাকার ক্ষেত্রে আগে যে আবগারি শুল্ক কেটে রাখা হতো, সেটির সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি করতে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলায় মূসক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

তবে ব্যাংকারদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো সরকারের নিজস্ব ঋণ পরিকল্পনা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রায় ১.৩৫ লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার যদি ব্যাংক থেকে এভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, যা ব্যাংকের তারল্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

বীমা খাত: আস্থা পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান
বাংলাদেশের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান এখনো ১ শতাংশের নিচে। গ্রাহকদের চরম আস্থাহীনতা এবং কতিপয় কোম্পানির অনিয়মের কারণে এই খাতটি দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) তাই এবার কর ছাড়ের চেয়ে খাতের সুশাসন ও টেকনিক্যাল সংকট দূরীকরণে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।

সুশাসন ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ
বীমা গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে এবং সময়মতো পলিসির টাকা বুঝিয়ে দিতে পুরো খাতে গভর্ন্যান্স বা সুশাসন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য বিশেষ গাইডলাইন বা বাজেট সহায়তার প্রস্তাব করা হয়েছে।

লভ্যাংশ নীতি থেকে অব্যাহতি
সরকার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য মুনাফার সর্বনিম্ন ৩০% নগদ লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া বাধ্যতামূলক করার যে খসড়া নীতি প্রণয়ন করছে, তা থেকে ব্যাংক খাতের মতো বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যেন সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়, সেই দাবি জানিয়েছে বিআইএ।

সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বলছে, সরকার বীমা খাতের ওপর রাজস্বের চাপ বাড়ানোর চেয়ে এই খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশি আগ্রহী। বিআইএ-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ২০২৬ সালের লাইসেন্স নবায়ন ফি সংক্রান্ত সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামত চেয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে ফি জমা দেওয়ার পরও যেসব কোম্পানির লাইসেন্স প্রশাসনিক গ্যাঁড়াকলে আটকে আছে, তাদের জটিলতা দূর করতে আসন্ন বাজেটের পরপরই বিশেষ সরকারি গেজেট সংশোধনের মতো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ঢালাও কোনো কর ছাড় বীমা খাত এবার পাচ্ছে না বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মন্দা কাটাতে সমন্বিত পলিসি ও কর রেয়াতের খোঁজে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার গত কয়েক বছর ধরেই এক টানা মন্দা ও তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) একক ও যৌথভাবে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেছে।

‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ মডেল
বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে একটি নির্দিষ্ট পরিশোধিত মূলধনের ওপর থাকা বড় বড় অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসার জন্য বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তি
লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে ব্যবসা করা শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে আনা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিশ্রেণির লভ্যাংশ করমুক্ত করা
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাজারে ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নগদ লভ্যাংশ বা ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ওপর থেকে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ডিবিএ।

অগ্রিম উৎসে কর (টিডিএস) হ্রাস
শেয়ার লেনদেনের ওপর ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অগ্রিম উৎসে কর আন্তর্জাতিক মানদ-ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংকের কর যৌক্তিকীকরণ
পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে করপোরেট কর হার হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এবার বেশ ইতিবাচক ভূমিকা নিতে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন আর্থিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

দ্বৈত কর পরিহারের আশ্বাস
ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর ডাবল ট্যাক্সেশন বা দ্বৈত করের বোঝা কমানোর দাবিটি এনবিআর গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। লভ্যাংশ আয়ের ওপর যে উৎসে কর কাটা হয়, সেটিকে ‘চূড়ান্ত কর দায়’ হিসেবে গণ্য করার একটি বড় ঘোষণা আসন্ন বাজেটে আসতে পারে।

কর ব্যবধান বৃদ্ধি
ভালো ও লাভজনক কোম্পানিগুলোকে বাজারে টানতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করের ব্যবধান বর্তমানের চেয়ে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

ডিজিটালাইজেশন ও সহজীকরণ
মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে লাইসেন্সিং এবং করসেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার বাজেট
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি এমন এক সময়ে আসছে যখন সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচক চাপের মুখে। আইএমএফের শর্ত মেনে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে গিয়ে এনবিআর চাইলেও ব্যাংক বা পুঁজিবাজারে ঢালাও কর ছাড় দিতে পারছে না। তবে পত্রিকার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণগুলো বলছে, সরকার করের হার সরাসরি খুব বেশি না কমিয়ে ‘পলিসি রিফর্ম’ বা নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতগুলোকে চাঙা করার চেষ্টা করবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী জুনে অর্থমন্ত্রী যখন চূড়ান্ত বাজেট পেশ করবেন, তখন দেশের আর্থিক খাতের এই চাকাগুলো সচল করতে তিনি কতটা সুনিপুণভাবে করের চাপ এবং প্রণোদনার ভারসাম্য বজায় রাখেন।


  বিষয়:   ব্যাংক  বীমা  পুঁজিবাজার  সরকার  জাতীয় বাজেট 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: