বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য আইনে যা-ই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট নিয়মে কর পরিশোধ করলে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তবে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করতে নির্ধারিত হার কর পরিশোধ করা লাগবে। বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেটে এমন প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত বিধানে বলা হয়েছে, অর্থবিলে ‘অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ সংক্রান্ত ধারাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ বা সম্পত্তি ক্রয় করলে, তার আয়ের উৎস এবং এর বিপরীতে পরিশোধিত করের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। প্রস্তাবে বলা হয়, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের প্রকৃত মূল্য যদি দলিলে উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে বেশি হয়, তবে করদাতাকে ওই অপ্রদর্শিত অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের ওপর স্বাভাবিক হারে (ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত করহারে) আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
একইভাবে কোনো করদাতা যদি জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয় করেন এবং তার প্রকৃত মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হয়, তবে অপ্রদর্শিত অতিরিক্ত অঙ্কের ওপর মূলধনী মুনাফার জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর দিতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, স্বপ্রণোদিত ঘোষণার পূর্বে যদি এই আইনের অধীনে কোনো করদাতার বিরুদ্ধে কোনো আইনি কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে, তাহলে তাকে ওই অপ্রদর্শিত অতিরিক্ত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রদেয় করের অতিরিক্ত আরও ২০ শতাংশ কর বা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এই ধারার অধীনে কর পরিশোধকারী করদাতা তার আয়কর রিটার্নের জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণীতে প্রদর্শন করতে হবে।
এদিকে আইনি একটি কঠোর সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে। স্বপ্রণোদিত ঘোষণার পূর্বে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের কোনো আদালতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন কিংবা কারও বিরুদ্ধে আদালতে কোনো ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলা চলমান থাকে, তবে তিনি এই বিশেষ আইনি সুবিধা বা দায়মুক্তি পাবেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিধান সাময়িকভাবে রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করলেও অসৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে। এর মাধ্যমে মূলত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো সংস্থার তদন্ত করার আইনি পথকে সীমিত করতে পারে।
/কহু