রাশিয়ান ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের ইনভয়েস সংক্রান্ত জটিলতায় পোশাক কারখানাগুলোর পাওনা অর্থ আইনগতভাবে দায়বদ্ধ পক্ষের সঙ্গেই নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপি।
একই সঙ্গে সীমিত সংখ্যক তৃতীয় পক্ষের বিরোধের কারণে যেন পুরো পোশাক খাত বা দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্য বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে উভয় পক্ষ। মঙ্গলবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও এলপিপির ডিরেক্টর (পারচেজিং অ্যান্ড ইএসজি) ডোরোটা জানকোভস্কা-টমকৌয়ের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, রাশিয়ার কোম্পানি এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি সরবরাহকারী পোশাক কারখানার আনুমানিক ৪ কোটি ডলার রফতানি অর্থ বকেয়া রয়েছে। স্থানীয় রফতানিকারকদের দাবি, ওই ক্রেতার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া পরিচালনায় এলপিপির ঢাকা কার্যালয় মধ্যস্থতা বা সহায়তা করেছিল।
তবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমানে আলোচিত বিষয়টি পুরোপুরি ইনভয়েস ও চুক্তিভিত্তিক বকেয়া দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত- যেখানে এলপিপি আইনগতভাবে কোনো দেনাদার বা অর্থ পরিশোধে বাধ্য থাকা পক্ষ নয়। এলপিপি নিশ্চিত করেছে, তারা বাংলাদেশে নিজেদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের যাবতীয় পাওনা চুক্তির শর্তানুসারে নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে।
বিজিএমইএ ও এলপিপির এই আইনি অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর দাবি কেবল সেই সব প্রতিষ্ঠানের কাছেই উপস্থাপন করা উচিত, যারা আইনগতভাবে এতে বাধ্য। উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো বর্তমানে একটি কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এলপিপি তার নিজস্ব আইনি অবস্থান বজায় রেখেই প্রয়োজনে একটি গঠনমূলক সংলাপে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশে সম্প্রতি এলপিপির সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার বিষয়ে ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে, এটি কোনো প্রস্তুতকারক বা কারখানার বিরুদ্ধে ছিল না। মূলত স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা, আইনি নিশ্চয়তা এবং একটি স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখাই ছিল এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে এলপিপির নিজস্ব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
বর্তমানে বাংলাদেশে এলপিপির সঙ্গে ৩৫০টিরও বেশি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত রয়েছে। বিজিএমইএ এবং এলপিপি উভয় পক্ষই মনে করে, সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বিরোধের কারণে সমগ্র পোশাক খাতের স্বার্থ যেন বিঘ্নিত না হয়। তাই অনাকাক্সিক্ষত ক্ষতি এড়াতে যেকোনো ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে। এর মাধ্যমে এলপিপির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো ধরনের অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সমঝোতা কোনো আইনি প্রক্রিয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করবে না এবং আইনত দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকারও বহাল থাকবে। বিজিএমইএ এবং এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব বজায় রেখে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি