সততার আলো ছড়ানো এক নৈশপ্রহরী নুরুল আলম বাচা। কাজ করেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভায়। বর্তমান সময়ে নৈতিকতার অবক্ষয় যখন চারদিকে দৃশ্যমান, তখন হারিয়ে যাওয়া ২০ লাখ টাকা মালিককে ফেরত দেওয়া শুধু স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয় বরং এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সততার এমনই উদাহরণ তৈরি করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও নাজিরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাকে ‘সততার সম্মাননা’ ও ‘আর্থিক সহায়তা’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও বলেন, সমাজে যখন অর্থের মোহ অনেককে নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত করছে, তখন এক সাধারণ নৈশপ্রহরী অসাধারণ সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি শুধু এক ব্যবসায়ীর ক্ষতি রোধ করেননি, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আমরা তাকে উপজেলা থেকে ‘সততার সম্মাননা’ এবং নাজিরহাট পৌরসভা থেকে ‘আর্থিক সহায়তা’ দেব।
এরআগে, বুধবার কুঁড়িয়ে পাওয়া অর্থ তার মালিক নাজিরহাটের ব্যবসায়ী দুর্লভ ধরকে গভীর রাতেই ফেরত দেন। বৃহস্পতিবার সময়ের আলোয় ‘কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন নৈশপ্রহরী’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার হলে মুহুর্তেই তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে নুরুল আলমের সততার প্রশংসা এবং তাকে নানাভাবে সহায়তার কথা উঠে আসে। সেই সূত্রধরেই উপজেলা প্রশাসন তাকে সহায়তার হাত বাড়ান।
নুরুল আলম বাচা নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের মাইজ্যা মিয়াজির বাড়ির মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে। তিনি পৌরসভার নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। দারুণ অর্থকষ্টে থাকা বাচা তিন কন্যা ও একমাত্র ছেলের বাবা। তার বড় দুই মেয়ে বিবাহিত এবং ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে। একমাত্র ছেলের বয়স ৮ বছর।
সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকু বলেন, অনেকের কাছে এটি লোভের কারণ হতে পারত। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা না করে ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেন। তার এই কাজ প্রমাণ করে, সততা কোনো পদ-পদবি বা আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। এটি মানুষের চরিত্রের বড় পরিচয়। সমাজে এমন নৈতিকতার চর্চা হলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা খবরের ভিড়ে বাচা আমাদের আশাবাদী করে। তার মতো মানুষদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। যাতে অন্যরাও সততার পথে চলতে উৎসাহিত হন। তিনি দেখিয়েছেন, সততা এখনো হারিয়ে যায়নি; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সমাজ বদলে দেওয়ার অসাধারণ শক্তি।
/ইউএমএইচ