ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দীর্ঘদিন পর ক্রয়কৃত ৭ শতক জমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পাওয়ার পরও প্রকৃত মালিক জেসমিন বেগম ও তার পরিবার আতঙ্কে আছে। আদালতের আদেশে প্রশাসন জমি বুজিয়ে দেওয়ার পর সাইনবোর্ড ও খুঁটি উপড়ে ফেললেন প্রতিপক্ষ।
আদালত ও গৌরীপুর সহকারী কমিশনার ভূমি সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের চরপাড়া মৌজার ৭ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় মোছা. জেসমিন বেগমের সাথে জালাল উদ্দীন গংদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত জেসমিন বেগমকে জমির মালিক হিসেবে ঘোষণা দেন। রায়ের পর প্রতিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করবে বলে জানায়। আদালতের নির্দেশে প্রশাসন জমিটি উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকদের দখলে দেয়।
এসময় জমি বুঝিয়ে দিতে আদালতের পক্ষে গৌরীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি সুনন্দা সরকার প্রমা, সার্ভেয়ার মাহফুজুর রহমান এবং থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
জমি ফিরে পাওয়ার পর আবারও খুঁটি ও সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলার বিষয়ে জেসমিন বেগম বলেন, সকালে স্থানীয়দের ও প্রশাসনের সহায়তায় আমি জমি বুঝে পেয়েছি। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসন এবং যারা জায়গাটা বুঝে পেতে আন্তরিক সহযোগিতা করছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর দুপুরে আদালতের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বিবাদী পক্ষ জালাল উদ্দিনের ছেলে এমদাদুল, আজিজুল, রবিকুল, হাবিকুল সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য মিলে জমির খুটি ও সাইনবোর্ড উপরে ফেলে দেয় এবং লোকজন নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও উস্কানি মূলক বক্তব্য দেয়।
এতে জমির মালিক জেসমিন বেগম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে অভিযুক্তের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এই রায় মানি না। এই জায়গা আমরা আবার দখল করব। তারা কোর্টে টাকা পয়সা খরচ করে এই রায় বের করে এনেছে। উচ্চ আদালতে আমরা এই মামলার আপিল করব।
সহকারী কমিশনার ভূমি সুনন্দা সরকার প্রমা বলেন, আমরা জর্জ কোর্টের নির্দেশে বিআরএস খতিয়ান ১২৬ ও খারিজ ১৯৭ খতিয়ানের ৭ শতক জমি জেসমিন বেগমকে বুঝিয়ে দিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ছিল। আদালতের আদেশে জমি বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিবাদী পক্ষ চাইলে পুনরায় আপিল করতে পারবে কিন্তু বিবাদী পক্ষ জমির খুটি ও সাইনবোর্ড যদি উপড়ে ফেলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জেডআই