আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের স্বামী সাফিউল্লাহ ওরফে মহব্বতকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৫ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই কাজী আব্দুল মান্নান আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, একদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের কাজ চলমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে বলা হয়, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১০ জুন ভোরে সাফিউল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে শয্যা খালি না থাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে অবস্থানকালে স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন ঝিলিক। শুক্রবার সকালে স্বজনরা হাসপাতালে এসে সাফিউল্লাহর সঙ্গে দেখা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এসময় ঝিলিক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার কিছু সময় পরই দুর্ঘটনার খবর আসে। পরে সাফিউল্লাহ ফোন করে ঝিলিকের পরিবারকে জানান, তিনি হাসপাতালের ভবনের একটি খোলা বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক ধানমন্ডি মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সাফিউল্লাহকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায়।
সময়ের আলো/আআ