কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পরও ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।
রোববার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার প্রতি ভারতের এই আচরণকে ‘অসৌজন্যমূলক, অমর্যাদাকর এবং উদ্দেশ্যমূলক হেনস্তা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা ড. জাহেদ উর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ভারত-সমর্থিত আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ সহকারী আরও দাবি করেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের এমন হয়রানি দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সমস্যার অংশ এবং তিনি নিজেও অতীতে এর শিকার হয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক প্রোটোকল লঙ্ঘনের জন্য ভারতের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের। তার এই সফরের ব্যাপারে গত শুক্রবারই দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে অবহিত করেছিল।
রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে রহস্যজনক কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে দেয়। পরবর্তীতে ভারতের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, আত্মমর্যাদা ও দেশের সম্মান রক্ষার্থে তিনি সেখানে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন। দেশের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ বিবেচনা করে তিনি সফর বর্জন করেন এবং কলম্বো হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। উপদেষ্টার এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব তার পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সময়ের আলো/জেডি