যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন নতুন চুক্তির ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে এখনো বেশিরভাগ জাহাজ সেখানে আটকে আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
ট্রাম্প সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, জাহাজগুলো আবার চলতে শুরু করেছে, অনেকগুলো তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তবে শিপিং শিল্পের সূত্রগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এখনো পর্যন্ত এমন কোনো স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়নি যা দিয়ে বলা যায় প্রণালী পুরোপুরি খুলে গেছে। নিরাপত্তা ও চুক্তির শর্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জাহাজ চলাচল আরও অনেকদিন সীমিত থাকতে পারে।
বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিআইএমসিও) নিরাপত্তা প্রধান জ্যাকব লারসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্য এখনো অস্পষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো— যেমন সময়সূচি ও নিরাপদ রুট নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এখনই জাহাজ চলাচল শুরু করা নিরাপদ নয়। তাই জাহাজ মালিকদের কঠোর ঝুঁকি বিশ্লেষণ চালিয়ে যেতে হবে এবং সব পক্ষকে নাবিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও কিছু জাহাজ আগেও সীমিতভাবে প্রণালী পার হয়েছে, তবুও বড় আকারে বাণিজ্যিক ট্রাফিক এখনো শুরু হয়নি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২০টি ট্যাংকার এবং ৫০০টির মতো জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে আছে।
তেলবাজার বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলেই বড় ধরনের জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। তার মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিমার (ইনস্যুরেন্স) অনিশ্চয়তাও বড় বাধা হয়ে আছে। অনেক বীমা কোম্পানি এখনো এই রুটে যুদ্ধঝুঁকি কভার দিচ্ছে না, ফলে জাহাজগুলো চলাচলে অনিচ্ছুক।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, শুক্রবারের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং নৌপথ নিরাপদ করা হচ্ছে। তবে সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট নিরাপদ রুট, নৌসুরক্ষা এবং ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বড় পরিসরে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া কঠিন।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সেখানে এখনো সতর্কতা, অনিশ্চয়তা এবং স্থবিরতার পরিবেশই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
/ইউএমএইচ