ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা

2026-08-01T07:58:42+00:00
2026-08-01T08:01:20+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ এএম  আপডেট: ০১.০৮.২০২৬ ৮:০১ এএম
ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি। ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পাচ্ছেন।

ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দফতর (অফপ্রা)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় খোলা আবেদনসহ বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদনের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

অফপ্রা ও ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ৭.৪ শতাংশ। ফ্রান্সে আশ্রয়ের আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজ দেশে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ অথবা গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।

অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে প্রবেশ বা বসবাসের সহজ কোনো উপায় নয়। প্রতিটি আবেদন কঠোর আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকা, দুর্বল দাবি বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যায়।


সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয়ের আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঝুঁকির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া আবেদন অনুমোদনের সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেছে।

২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ কম। একই সময়ে দেশটিতে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন এবং সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল ৪১.২ শতাংশ।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় একটি গুরুতর আইনি বিষয়। এখানে বাস্তব ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আবেদন করলে শুধু আবেদনকারীর নিজের ক্ষতি হয় না, দেশের মানুষের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। মানবপাচারকারী বা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুল তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   ফ্রান্স  রাজনৈতিক  বাংলাদেশি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: