ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছেন পুতিন : ন্যাটো কমান্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও বেশি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছেন বলে সতর্ক

2026-09-23T11:32:02+00:00
2026-09-23T11:33:17+00:00
 
  বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছেন পুতিন : ন্যাটো কমান্ডার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ এএম  আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ১১:৩৩ এএম
ন্যাটোর উপ-সামরিক কমান্ডার এয়ার চিফ মার্শাল স্যার জন স্ট্রিংগার। ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও বেশি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছেন বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপে ন্যাটোর উপ-সামরিক কমান্ডার এয়ার চিফ মার্শাল স্যার জন স্ট্রিংগার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

স্ট্রিংগারের ভাষ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন পুতিন। এ কারণে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে বর্তমান ‘উত্তপ্ত পরিস্থিতি’ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে সংযত হতে হবে। কারণ, ন্যাটোকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্ররোচিত করাই পুতিনের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ রাশিয়ার সম্ভাব্য আরও দুঃসাহসী তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গত সপ্তাহে বলেন, রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সম্ভাব্য ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে ইউরোপের অন্য কর্মকর্তারা রাশিয়ার হুমকিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

ব্রিটেনের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চাইছেন না। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার কর্মকর্তারাও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

‘পুতিন ন্যাটোকে পরীক্ষা করছেন’
ন্যাটোর উপ-কমান্ডার স্ট্রিংগার বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের একটি অংশ ‘দুর্ঘটনাজনিত’ নাকি ইচ্ছাকৃত, তা নির্ধারণ করা কঠিন। রাশিয়ার জিপিএস জ্যামিং বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রতিরোধব্যবস্থার কারণে ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে কিছু রুশ ড্রোন ন্যাটোর আকাশসীমায় ঢুকে পড়তে পারে।

তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বাড়ানো রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হলেও, এর অর্থ এই নয় যে মস্কো ইতোমধ্যে তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল বলেন, রাশিয়ার অবহেলাজনিত কর্মকাণ্ড এবং ন্যাটোর প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার মনোভাবের মধ্যে পার্থক্য এখন খুবই কম।

মিখাল ও স্ট্রিংগার দুজনেরই মতে, রাশিয়ার গোপন তৎপরতা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এপিকে বলেন, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে প্রস্তুত ও শক্তিশালী থাকতে হবে। রাশিয়া কোনো ‘বোকামি’ করলে তার প্রতিক্রিয়া কঠোর হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতার অভিযোগ
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশ এবং নাশকতামূলক তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে। এপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে এ ধরনের ৫৯টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে তা বেড়ে ২১০টির বেশি হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভাঙচুর, প্রচারণা, প্রভাব বিস্তার, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও সাইবার হামলার অভিযোগ রয়েছে।

জার্মান কর্মকর্তারা আগস্টে লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন উদ্ধারের ঘটনায় মস্কোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছিলেন। ব্রিটিশ কর্মকর্তারাও গত মাসে লন্ডনের বাইরে একটি ড্রোন কারখানায় নাশকতার রুশ পরিকল্পনা নস্যাতের দাবি করেন। তবে ইউরোপের কিছু অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাশকতার জন্য রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনলাইনের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব তৎপরতার সঙ্গে জড়িত অনেকেই যে মস্কোর হয়ে কাজ করছেন, তা জানেন না বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনকে সমর্থনে বিভাজন তৈরির চেষ্টা
স্ট্রিংগারের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান প্রত্যাশিতভাবে এগোচ্ছে না। তাই পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা করছেন পুতিন।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখালও মনে করেন, ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই মস্কো এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোকে পরীক্ষা করছে।

তবে বর্তমানে রাশিয়া ইউরোপে সরাসরি প্রচলিত সামরিক হামলা চালাবে—এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন মিখাল। তাঁর মতে, ন্যাটোর সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যস্ততার কারণে এমন পদক্ষেপের ঝুঁকি কম।

তবে রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ‘বৈরী তৎপরতা’ অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাশিয়াকে নিবৃত্ত করার অন্যতম উপায় হলো ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখা।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  ন্যাটো  রাশিয়া  পুতিন 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: