কঠিন সমীকরণে আইজেনকোট

তৌহিদুজ্জামান সোহান

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ শনিবার

2026-11-09T01:30:49+00:00
2026-11-09T01:30:49+00:00
 
  সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬,
২৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কঠিন সমীকরণে আইজেনকোট
তৌহিদুজ্জামান সোহান
প্রকাশ: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দেন। তবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলেও আইজেনকোটের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা। 

বিশেষ করে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন গ্রহণে তার জোটের একাংশের আপত্তি, অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে বিরোধ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তার সরকার গঠনের পথ কঠিন করে তুলেছে।

স্থানীয় সময় রোববার বিকাল ৫টায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আইজেনকোট। এখন সরকার গঠনের জন্য তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট তাকে আরও ১৪ দিন সময় বাড়িয়ে দিতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সুযোগ পেতে পারেন নেতানিয়াহু। 

প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, বুধ ও বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের সব দলের সঙ্গে আলোচনা এবং সপ্তাহান্তে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠকের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলোচনায় আইজেনকোট ও নেতানিয়াহু দুজনের সঙ্গেই কথা বলেন তিনি। সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টের ১২০ সদস্যের মধ্যে আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ জন সুপারিশ করেছেন। 

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ এসেছে ৪৬ জনের। ৭ আসনের ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) কোনো পক্ষের প্রতিই সমর্থন জানায়নি। প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকোট বলেন, এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। তিনি আরও বলেন, আমাদের যোগ্য করে তুলতে আমি সবকিছু করব।

তবে ৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়াই যে সরকার গঠনের নিশ্চয়তা নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানে। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থি জোটের কট্টর অবস্থানে থাকা কয়েকজন নেতা আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট পার্টির সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের ঘোর বিরোধী। অন্যদিকে এই জোটের অনেক নেতা নির্বাচনি প্রচারে নেতানিয়াহুর পাশাপাশি অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোকে ক্ষমতার বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে সরকার গঠনের প্রয়োজনে এসব দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে গেলে নিজেদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গেও তাদের সংঘাতে জড়াতে হবে।

এদিকে সরকার গঠনের এই জটিলতার মধ্যে নেতানিয়াহু জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থি জোটের দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে তার প্রস্তাবের শর্ত হলো, আগের জোটের সব শরিককে নতুন সরকারে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কট্টর জাতীয়তাবাদী রিলিজিয়াস জায়োনিজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পার্টি এবং অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলো। তবে আইজেনকোটের জোটের কাছে এই শর্ত গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

নেতানিয়াহুর অবস্থানেও গেল কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। ২৭ অক্টোবর নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি শক্তিশালী জাতীয় ডানপন্থি জোট গঠনের কথা বলেছিলেন। ২ নভেম্বর তার বক্তব্যে উঠে আসে তার নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব। তবে এবার তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। নেতানিয়াহু ক্ষমতা ভাগাভাগি করে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কোনো প্রস্তাবও দেননি। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান শনিবার নেতানিয়াহুর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বরাত দিয়ে জানায়, ঐক্যের সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হলে এ ধরনের ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি হতে পারেন তিনি।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহুর পাঠানো একজন প্রতিনিধি আইজেনকোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে আইজেনকোটের দল জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ সম্পর্কে তারা অবগত নয়। 

ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের তীব্র বিরোধিতা করেন। দলগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থক’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের সমর্থনে সরকার গঠিত হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার ভাষায়, এমন কেউ আছেন যিনি আগামী সপ্তাহেই সন্ত্রাসের সমর্থকদের নিয়ে তড়িঘড়ি করে সরকার গঠন করতে চান। ইসরাইল রাষ্ট্রকে যারা ধ্বংস করতে চায়, তাদের নিয়ে দেশটিতে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।

নেতানিয়াহুর অভিযোগ, হামাসের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। গাজা ও লেবাননে অভিযানরত ইসরাইলি সেনাদেরও সুরক্ষা দিতে পারবে না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইসলামপন্থিদের দায়ী করে যে সহিংস দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠিত হলে ইসরাইলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। 

তার দাবি, এ ধরনের সরকার নিয়ে ইসরাইল টিকে থাকতে পারবে না। নেতানিয়াহু আরও বলেন, আমি এমন একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে জাতীয় শিবিরের সব দল এবং আমাদের দেশকে রক্ষা করতে চায় এমন সব জায়োনিস্ট দল থাকবে। এটিই ইহুদি জনগণের একমাত্র রাষ্ট্র। তার দাবি, জাতীয় ঐক্যের সরকার ইরানের পারমাণবিক হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করবে, ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলকে সুরক্ষা দেবে এবং জনগণের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনবে।

তবে নেতানিয়াহুর এই আহ্বানকে ভণ্ডামি হিসেবে দেখছে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি। দলটি নেতানিয়াহুর ভিডিওবার্তাকে ‘ক্ষ্যাপাটের ভাড়ামি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, তিনি নিজেই ইসরাইলি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছেন এবং অতীতে তার নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যের সরকারগুলোকেও দুর্বল করেছেন। ইয়াশার পার্টির বক্তব্য, ‘লিকুদ ও তাদের বন্ধুরা যদি হঠাৎ ঐক্য ও বৃহত্তর সরকার গঠনে আগ্রহী হয়ে থাকে, তা হলে তারা প্রকাশ্যে কট্টরপন্থিদের সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। 

গাদি আইজেনকোটের চারটি মূলনীতি মেনে নিয়ে তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে পারে।’ দলটি আরও বলেছে, ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধের সময়ও নেতানিয়াহু পরিকল্পিতভাবে ঐক্যের বিপক্ষে কাজ করেছেন। এখন ক্ষমতায় থাকার দিন ফুরিয়ে আসছে বুঝতে পেরেই তিনি ঐক্যের কথা বলছেন। তবে এই আমন্ত্রণে নেতানিয়াহুর নিজের নাম উল্লেখ করা হয়নি। কারণ আইজেনকোট আগেই স্পষ্ট করেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় যারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাধর পদে ছিলেন, সবাইকে জনজীবন থেকে সরে যেতে হবে। নেতানিয়াহুও এর অন্তর্ভুক্ত।

নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনের আরেকটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হয়েছে অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে। দীর্ঘদিন নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গী ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজমের (ইউটিজে) সঙ্গে বিরোধী জোটের কয়েকটি দলের আলোচনা এগোনোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। 

ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান শুক্রবার জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে এবং আরব দলগুলোর সহায়তা ছাড়াই সরকার গঠন করতে হলে অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। এ জন্য সামরিক বাহিনীতে হেরেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়োগের বিষয়ে ‘বেদনাদায়ক সমঝোতা’ করতেও আপত্তি নেই তার। একসময় অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধে জড়ানো লিবারম্যানের এ অবস্থান পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তার বক্তব্যের পর ইউটিজে নেতৃত্বও এ ধরনের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অতি-ধর্মীয় দল শাসের নীতিনির্ধারণী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ কাউন্সিল অব তোরাহ সেজেসের একটি সূত্র শনিবার চ্যানেল ১২ নিউজকে জানিয়েছে, ইউটিজের আধ্যাত্মিক নেতা যদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার অনুমোদন দেন, তা হলে শাস দল তাতে বাধা দেবে না কিংবা এর বিরুদ্ধে ভোটও দেবে না। 

ওই সূত্রের ভাষ্য, শাসের রাব্বিরা (ইহুদি ধর্মযাজক) কোনো পরিস্থিতিতেই ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজমের রাব্বিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। এতে অতি-ধর্মীয় ইহুদি সমাজে বড় ধরনের বিভক্তি তৈরি হবে। চ্যানেল ১৩ নিউজও ইউটিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, রাব্বিরা যদি আলোচনাধীন চুক্তির শর্তগুলো অনুমোদন করেন, তা হলে শাসের সামনে এ উদ্যোগে যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

পার্লামেন্টে ৪৮ সদস্যের পরিবর্তনপন্থি জোটের সঙ্গে ইউটিজের সাতজন আইনপ্রণেতার সমর্থন যুক্ত হলে এবং ছয় সদস্যের শাস দল বিরোধিতা না করলে আইজেনকোটের সরকার ৬১ সদস্যের সমর্থন পেতে পারে। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে এটি হবে ন্যূনতম সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে বিরোধীদের পক্ষে অনাস্থা এনে সরকার পতন ঘটানো কঠিন হবে। 

তবে শাস দল এ সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছে। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে তাদের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে তারা ‘সম্পূর্ণ ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে। যদিও সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে শাসের সরাসরি সরকারে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়নি; বরং এমন সরকারকে বিরোধিতা না করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়, কাউন্সিল অব তোরাহ সেজেসের নির্দেশনা অনুযায়ী শাস ডানপন্থি জোটের অংশ এবং তোরাহ ও ইহুদি ঐতিহ্যের অনুসারী।

এদিকে চ্যানেল ১৩-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই লিবারম্যান ও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর মধ্যে গোপন যোগাযোগ ছিল। এমনকি নির্বাচনি প্রচারের সময় প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেমের মেয়র মোশে লায়ন এবং অতি-ধর্মীয় রাজনীতিক উপদেষ্টা আভি আবুহাতজেইরার মতো লিবারম্যানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এ যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। বিষয়টি ইসরাইল বেইতেনু পার্টির অধিকাংশ সদস্যের কাছেও গোপন রাখা হয়েছিল।

একসময় অতি-ধর্মীয় দলগুলোর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন লিবারম্যান। ২০১৯ সালে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিরোধের পর তিনি তার সরকারে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তী সময়ে অতি-ধর্মীয় পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে ব্যাপক অব্যাহতি দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি অন্যতম সোচ্চার রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন। 

চ্যানেল ১৩-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক অজ্ঞাতনামা অতি-ধর্মীয় নেতা বলেন, সামরিক নিয়োগের প্রশ্নে লিবারম্যান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছেন। এখন তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে আগাম মূল্য পরিশোধ করেছেন। বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে ইউটিজেকে লিবারম্যানের সঙ্গে সরকার গঠনে যোগ না দিতে নেতানিয়াহু ব্যাপক চাপ দিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও আইজেনকোটের জোটের ভেতরেই এ নিয়ে বড় মতপার্থক্য রয়েছে। লিবারম্যানের পাশাপাশি ইয়াশার পার্টি, নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াহাদ পার্টি এবং ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র‍্যাটস পার্টিও নির্বাচনি প্রচারে অতি-ধর্মীয় ইহুদি পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক ছাড় বা অব্যাহতি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে যোগ না দেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা বন্ধের কথাও বলেছিল তারা। লিবারম্যানের ঘোষণার পর বেনেটের দল নীরব থাকলেও আইজেনকোট ও গোলানের দল বুঝিয়ে দিয়েছে, সামরিক নিয়োগের প্রশ্নে তারা লিবারম্যানের মতো নমনীয় নয়।


শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আইজেনকোট আবারও বলেছেন, ভবিষ্যৎ জোটের যেকোনো অংশীদারকে সামরিক, জাতীয় কিংবা বেসামরিক সেবায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের নীতিতে সমর্থন জানাতে হবে। তার মতে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং এর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এ ব্যবস্থা জরুরি। শনিবার সন্ধ্যায় ডেমোক্র‍্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলানও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি। গোলান বলেন, নেতানিয়াহুর মতো আমরা বেনেই ব্রাক কিংবা মেওয়া শেয়ারিমে যাব না। 

তেল আবিবের উপকণ্ঠের বেনেই ব্রাক এবং জেরুজালেমের মেওয়া শেয়ারিম মূলত অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের বসবাসের এলাকা। গোলান আরও বলেন, যারা আমাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করতে চায়, তাদের রামাত গানে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। রামাত গান তেল আবিবের একটি প্রধানত ধর্মনিরপেক্ষ উপশহর। গোলান অতি-ধর্মীয় তরুণদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ, তাদের কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইসরাইলের প্রতিটি শিশুকে সম্মানজনক জীবিকা অর্জনের উপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, শুধু মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পক্ষে আর দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার বোঝা বহন করা সম্ভব নয়।

অতি-ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর জীবনাচারকে সম্মান করার পাশাপাশি তাদেরও অন্যদের জীবনযাপনের অধিকারকে সম্মান করতে হবে বলে মন্তব্য করেন গোলান। তিনি বলেন, আমরা যেমন অতি-ধর্মীয় জীবনধারাকে সম্মান করি, তেমনি তাদের কাছ থেকেও আমাদের জীবনধারার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করি। আমাদের পৌর এলাকাগুলোতে শনিবার (ইহুদিদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন) বাইরে বের হওয়া, কফি পান করা কিংবা প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে হবে। অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী হলেও তাদের কোনো শর্তহীন ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে গাদি আইজেনকোটের সামনে সরকার গঠনের জন্য কয়েকটি কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। একদিকে আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণে জোটের কট্টরপন্থি অংশের আপত্তি, অন্যদিকে অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সামরিক নিয়োগ আইন নিয়ে বিরোধ। আবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাবও আইজেনকোটের ঘোষিত রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। লিবারম্যানের উদ্যোগে অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা বাস্তবায়ন করতে হলে জোটের অন্য শরিকদেরও রাজি করাতে হবে।

অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব মেলানোর পাশাপাশি আইজেনকোটকে নিজের জোটের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি, আদর্শিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য শরিকদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। ৬১ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেই সমর্থনকে স্থায়ী রাজনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়া সহজ হবে না। সরকার গঠনের ২৮ দিনের সময়সীমায় এই সমীকরণ মেলাতে না পারলে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার আরেকটি সুযোগ পেতে পারেন নেতানিয়াহু।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   সমীকরণ  আইজেনকোট  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: