ইরানের স্থলভিত্তিক সরবরাহ পথও বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : সংগৃহীতপারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কয়েক মাস ধরে চলা নৌ অবরোধের পর এবার ইরানের স্থলভিত্তিক সরবরাহ পথও বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সেন্টকম শনিবার জানিয়েছে, উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ইরানের স্থলপথের ব্যবহার ঠেকাতে এ বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ সমুদ্রে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অবরোধের সাফল্য আরও জোরদার করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পাভিত্তিক এই টাস্কফোর্স অন্যান্য মার্কিন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইরানের স্থল সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারের প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সরঞ্জাম এবং অবৈধ আয়ের উৎসের চলাচল বন্ধ করাই এর লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আলজাজিরাকে বলেন, টাস্কফোর্সটির মূল কাজ হবে অস্ত্রের চালান কোথা থেকে আসছে, কোন পথে সেগুলো পরিবাহিত হচ্ছে এবং কীভাবে ওই সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা যায়, তা শনাক্ত করা। পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি পরিবহনের পথও খতিয়ে দেখবে তারা। মুলরয় আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন, তা হলে এসব নির্দিষ্ট সরবরাহ পথ ও অবকাঠামোই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি বলেন, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজর দেওয়া অপারেশন এপিক ফিউরির তুলনায় এটি কিছুটা ভিন্ন হবে। আমার ধারণা, এবার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তেহরান সরকারের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং অর্থের জোগান দেওয়ার পথ স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এটি।
এদিকে ইরানি বন্দরগুলোতে চলমান নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগরে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সেন্টকম। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এম/ভি হুদা নামের জাহাজটিকে অবরোধ-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির ক্রুদের লক্ষ্যবস্তু করা স্থান ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এর পেছনের অংশে নিখুঁত নিশানার গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়। এতে জাহাজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত জুলাই থেকে চালানো অভিযানে মার্কিন বাহিনী নির্দেশনা মেনে চলা ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি নির্দেশ অমান্য করায় পাঁচটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। এ ছাড়া জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর আগের দিন কেশম দ্বীপে নতুন করে মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলাগুলোকে ‘ক্ষুদ্র’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলায় তেহরান এখনও একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাঙ্কার মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। আইআরজিসি নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ট্যাঙ্কার দুটি নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে প্রণালির একটি অনিরাপদ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সমুদ্রের মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্যাঙ্কার দুটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়।
অন্যদিকে ইরানের কেশম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরনা। তবে এই বিস্ফোরণগুলো কোনো হামলার কারণে হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে ইরান সরকারের অনুমতি পেলে পারমাণবিক নীতি পরিবর্তন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র। তেহরান ক্রমাগত তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে চলেছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে