প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীতইসরায়েলের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোটারদের ওপর অবৈধ নজরদারির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফল আংশিক বা পুরোপুরি বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে দলটি। তবে ভোটার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের ঘটনায় লিকুদ পার্টির সংশ্লিষ্টতাই সবচেয়ে বেশি বলে উঠে এসেছে এক পর্যবেক্ষক সংগঠনের প্রতিবেদনে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলকে লিকুদ পার্টির আইনজীবী ইলান বোমবাখ জানান, নির্বাচনের দিন আরব দলগুলোর কর্মীরা স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটার উপস্থিতির হিসাব রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে লিকুদ পার্টি ৭০০টি অভিযোগ জমা দিয়েছে। তবে পুরো নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করা হবে, নাকি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আপিল করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৭ নভেম্বর আপিলের শেষ সময়সীমা।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আরব ভোটারের অংশগ্রহণে নেতানিয়াহুর জোট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এরপর থেকেই ঘুষ, ভয়ভীতি ও নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগ তুলছে লিকুদ পার্টির শরিকরা।
তবে ‘সিভিলিয়ান ইলেকশন গার্ড’ নামের একটি পর্যবেক্ষক সংগঠন জানিয়েছে, ভোটার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে অ্যাপ ব্যবহারের ৩৭৪টি সম্ভাব্য অবৈধ ঘটনার মধ্যে ৩২ শতাংশের সঙ্গে লিকুদ পার্টির কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন। এ তালিকায় ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ১০ শতাংশ, শাস ৬ শতাংশ, রা’আম ২ শতাংশ এবং জয়েন্ট লিস্ট ১ শতাংশ।
এদিকে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে দুটি তদন্তও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলেও নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো প্রভাব পড়বে না।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার প্রশ্নে ৬৭ জন সংসদ সদস্য বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের পক্ষে এবং ৪৬ জন নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন। দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কাউকেই সমর্থন না করায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সময়ের আলো/এমকে