প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। ভেঙে গেছে দোকানপাট ও গাড়ির শোরুমের জানালার কাচ। বিভিন্ন স্থানে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে টোকিওর পশ্চিমে শিজুওকা প্রিফেকচারে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আইচি অঞ্চলে বেশির ভাগই সামান্য আহত হওয়ার ১৬টি খবর পেয়েছেন তাঁরা। প্রতিবেশী শিজুওকা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯০ বছরের বেশি বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে কাঁধে আঘাত পেয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চুনিচি শিমবুন ও টোকাই টেলিভিশনের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইচি ও শিজুওকা অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
আইচি অঞ্চলের তোয়োহাশি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। একই অঞ্চলের তোয়োটা শহরের একটি বড় বইয়ের দোকানে তাক থেকে বই ও অন্যান্য পণ্য পড়ে যায়।
ভূমিকম্পের কারণে রোববার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দ্রুতগতির শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ছিল।
ভূমিকম্পের কম্পন ওসাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে এক বিদেশি বাসিন্দা কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্বিতীয় তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য পাওয়া যায়নি ওসাকার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে।
এদিকে, রোববার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোতো এলাকায় ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত জুলাইয়ে ওই অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হন। বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে অঞ্চলটি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত জাপানে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প হয়। ২০১১ সালের ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতিও এখনো দেশটির মানুষের মনে দগদগে। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন বা নিখোঁজ হন। একই ঘটনায় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বিধ্বস্ত হয়েছিল।
সময়ের আলো/জেডি