প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে একটি গ্রামে সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। শনিবার (৭ নভেম্বর) হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থা সাবা এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হামলার খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সৌদি আরবের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।
জুলাইয়ে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
হুতি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সানার পূর্বে হুতিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বানি হুশাইশ এলাকায় বসতবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
সানার সেহাতুনা হাসপাতালের পরিচালক আবদুল আজিজ আল-দাইলামি জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকে আছেন। তাদের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরাও রয়েছেন।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘হামলা থামছে না। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই আবার হামলা হচ্ছে। আমাদের নিজেদের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মাথা, বুক ও পায়ে আঘাত রয়েছে। অনেকের হাড়ও ভেঙে গেছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই যুদ্ধবিরতির ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে হামলা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছিল। হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণ করে।
নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নিজেদের মিত্রদের সমর্থনে বিমান হামলা চালিয়েছে রিয়াদ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের জটিল যুদ্ধও নতুন করে তীব্র হয়েছে। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে দেশটি ভেঙে পড়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনে যুদ্ধের প্রভাবে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গত অক্টোবরে জানিয়েছে, সর্বশেষ দফার সংঘর্ষ শুরুর পর ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি