প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। ছবি : সংগৃহীতফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ফের আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। বন্যায় তাদের তাঁবু ও আশ্রয়স্থলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুাযায়ী, শুক্রবার গভীর রাত থেকে গাজায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে আর বেশ কিছু দেয়াল ধসে পড়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে সাহায্য সরবরাহের ওপর ইসরাইলের কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকার কারণে গাজায় মানবিক সংকট চলছে, তার মধ্যেই এই বন্যা আরও দুর্ভোগ বয়ে এনেছে।
রোববার গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার এক প্রতিনিধি জানান, ইসরাইলি হামলায় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিরা অস্থায়ী তাঁবুগুলোতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, কিন্তু সেগুলো প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ট না। কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে গেছে আর বাসিন্দারা সেগুলো মেরামত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রায় চার লাখ ফিলিস্তিনি এমন কিছু এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছেন যা ‘অত্যন্ত ঝুঁকির্পূণ’ হিসেবে বিবেচিত। বন্যা আরেকটু বাড়লে এসব এলাকা ডুবে যেতে পারে। এসব এলাকার বহু বাসিন্দার তোশক, বালিশ ও কাপড়চোপড় ভিজে গেছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আলজাজিরার আরেক প্রতিনিধি জানান, সেখানে বন্যায় আশ্রয়স্থল হারানো বাস্তুচ্যুতরা শনিবার ভোর থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি।
ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভিচ জানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষ ‘ভয়ানক পরিস্থিতির’ মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও জরুরি তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঝড়বৃষ্টিতে প্রায় ৩০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দুই হাজারেরও বেশি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুতদের জন্য অন্তত তিন লাখ তাঁবু প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরাইলের বিধ্বংসী ও গণহত্যামূলক যুদ্ধ গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ, আশ্রয়সামগ্রী এবং পুনর্নির্মাণের উপকরণের ওপর অব্যাহত বিধিনিষেধ ত্রাণ তৎপরতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার জবাবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৬৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে