মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী দুটি পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টায় বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে এবং পরবর্তীতে রাত ৮টায় গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এক পক্ষের আহতরা হলেন শাহিন (৩৫), শহিদ (৩৭), মহিউদ্দিন (৪০), রেনু বেগম (৫০), সাইদুল (২৮), সালমা আক্তার (৩০) এবং লিজা আক্তার (২৫)। অপর পক্ষের আহতরা হলেন আয়েশা আক্তার (৩৫), হান্নান (৩৬), রাবেয়া বেগম (৬০), শাহ জালাল (৩৫) এবং শাহীনূর বেগম (৩০)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী রাকিবের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী শাহীনদের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার জেরে পরিবার দুটির মধ্যে এর আগেও বেশ কয়েকবার ঝগড়া-বিবাদ হয়। সর্বশেষ সোমবার (১৫ জুন) সালিশ বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হওয়ার পরও মঙ্গলবার বিকেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে বেশ কিছু সময় ধরে তাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে এক পক্ষের রাকিবের স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, আজকে যারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে তারা মূলত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামে একটি মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে আমি এই পরিবারটির মাদক সংশ্লিষ্টতার কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করলে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আমি এই বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করি। আজকে তারা সেই মামলায় কোর্ট থেকে হাজিরা দিয়ে এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। বহিরাগত লোকজন নিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
এদিকে অপর পক্ষের শাহিনের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, আমাদের সাথে রাকিবদের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, এর বাইরে কিছু নেই। রাকিবের স্ত্রী কুলসুম অত্যন্ত চতুর মহিলা, সে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মাদকের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। মূলত সোমবার এই বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে জমি মেপে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ পঞ্চায়েতের সেই রায় মেনে নেয়নি। সালিশ বৈঠক এবং জমির পরিমাপের পর আমরা যখন আমাদের প্রাপ্য অংশে কাজ করতে যাই তখন তারা বাধা প্রদান করে। মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার দিকে রাকিবের বউ কুলসুম, হান্নান, মান্নান, শাহজালালসহ বেশ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আহত হয়ে আমরা যখন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসি সেখানে এসেও তারা দ্বিতীয় দফায় আমাদের উপর হামলা করে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবিদুল হক আবিদ বলেন, এই ঘটনায় আহত ১২ জন রোগী আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাইদুল ও হান্নানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাবেয়া আক্তার নামে এক নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, যতটুকু জানতে পারলাম, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তারা হাসপাতালের সামনে আসার পরও কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা