বডিগার্ড দিয়ে চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন পুলিশ কর্মকর্তা!

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, কুমিল্লা

সারাদেশ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের কেউ কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর

2026-06-16T22:15:23+00:00
2026-06-16T23:55:09+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
সারাদেশ
বডিগার্ড দিয়ে চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন পুলিশ কর্মকর্তা!
মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম  আপডেট: ১৬.০৬.২০২৬ ১১:৫৫ পিএম  (ভিজিট : ৩২)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের কেউ কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ে। দৈনিক সময়ের আলো’র এক অনুসন্ধানে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিকের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি তার সরকারি বডিগার্ড রাকিবকে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজে আড়ালে থেকে বডিগার্ডের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং নির্দিষ্ট এলাকায় মাদক পরিবহনের নিরাপদ রুট নিশ্চিত করাই হলো ওই বডিগার্ডের অন্যতম দায়িত্ব। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মামলা বা হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। 

মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার যোগাযোগ অত্যন্ত গোপন ও সুসংগঠিত। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশি অভিযানের আগাম তথ্য সংশ্লিষ্ট চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বডিগার্ড রাকিব শুধু তথ্য আদান-প্রদানেই নয়, মাদক বিক্রির অর্থ সংগ্রহের কাজেও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে দৈনিক সময়ের আলোতে গত ১১ মে একটি অনুসন্ধানভিত্তিক ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘পুলিশের সদস্যরা যদি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন এবং তাদের হয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করবে কার কাছে? আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কেউ নেই।’

সমাজসেবক মো. মাসুদ করিম মাসুম বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে কীভাবে মাদক দেশে প্রবেশ করে, তা অনেকেরই জানা। মাদকের কারণে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয় ও প্রভাবের কারণে অনেক সময় মুখ খুলতে চান না। তবে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়।’

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিকে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার কার্যালয়ে গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে তা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, কোনো ব্যক্তির দায় পুরো বাহিনী নেবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/কেএইচও


  বিষয়:   বডিগার্ড  চাঁদাবাজি  মাদক সিন্ডিকেট  পুলিশ কর্মকর্তা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: