বাজারে কাঁচা মরিচের অস্থিরতার মধ্যে দীর্ঘ ৯ মাসের বিরতির পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পর্যন্ত দুই দিনে ৪৯ ট্রাকে ৫৫৮ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে এসেছে।
সোমবার প্রথম দিন ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১০টি ট্রাকে করে প্রায় ৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ বাংলাদেশে আসে। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ৩৯ ট্রাকে ৪৬৭ মেট্রিক টন ভারতীয় কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে। আমদানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার ভোমরা স্থলবন্দরে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম একদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যথারীতি শুরু হবে বলে জানান ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এর আব্দুল গফুর সরদার।
দীর্ঘদিন পর কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আমদানি শুরুর পর দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি শুরুর আগে দেশি কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত ছিল। বর্তমানে তা কমে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতীয় কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় কাঁচা মরিচের আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমে আসতে পারে।
দেশের বাজারে কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২ আগস্ট ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আইপি (ইমপোর্ট পারমিশন) ইস্যু করার পরই ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করে। ফলে প্রথম দিনই ১০টি ট্রাকে করে প্রায় ৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ ভোমরা বন্দরে ঢোকে। রাতেই স্থানীয় বাজারের পাশপাশি এই মরিচ পৌঁছে দেওয়া হয় দেশে বিভিন্ন বাজারে।
আমদানির প্রভাবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে আসবে বলেও আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরা শহরের কাঁচাপাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খা জানান, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে স্থানীয় মরিচ খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে যায়। ফলে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ টাকার কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়লে দ্রুতই দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।
ভোমরা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহামন জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত প্রতি টন কাঁচামরিচ সর্বনিম্ন ৬০০ ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। যেহেতু এটি একটি পচনশীল পণ্য, তাই ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত বন্দর থেকে পণ্য ছাড়িয়ে নিতে পারেন, সে জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করে।
তিনি আরও বলেন, সবশেষ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এই বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। সরকারের অনুমতির পর ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা কাঁচামরিচ আমদানির আবেদন করেন।
ভোমরা কাস্টমস কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৯ ট্রাকে ৫৫৮ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ বাংলাদেশে ভোমরা স্থলবন্দরে খালাস হয়েছে। কাঁচামরিচ বাজারে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শেষ করে।
সময়ের আলো/আতা