যমুনার পেটে যাওয়ার পথে চার গ্রামের একমাত্র স্কুল

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে যমুনার তীরবর্তী চৌহালী জনতা উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে

2026-09-27T12:12:05+00:00
2026-09-27T12:12:05+00:00
 
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
যমুনার পেটে যাওয়ার পথে চার গ্রামের একমাত্র স্কুল
রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম 
ভাঙনের কবলে পড়েছে যমুনার তীরবর্তী চৌহালী জনতা উচ্চবিদ্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে যমুনার তীরবর্তী চৌহালী জনতা উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন বিদ্যালয় ভবন থেকে যমুনার দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ ফুট। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চার গ্রামের ২৯৫ শিক্ষার্থীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামে গত সোমবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এরপর থেকে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবনটি যমুনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিদ্যালয়টি রক্ষায় ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওটেক্সের বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিংয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চার গ্রামের শিক্ষার্থীদের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে যাবে।


বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীভাঙনে এ এলাকার বহু মানুষ ইতোমধ্যে নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের সন্তানদের দূরের বিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে।

চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, হঠাৎ করেই নদীভাঙন শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয় ভবন থেকে নদীর দূরত্ব এখন মাত্র ১৫ ফুট।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। একই পরিণতি যেন চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রধান শিক্ষক জানান, চারটি নদীভাঙনকবলিত গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ২৯৫ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। আশপাশে আর কোনো বিদ্যালয় না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের একমাত্র ভরসা। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হলে স্কুলটি রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়টি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামই যমুনার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ওই এলাকায় জিওটেক্সের বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারানোর পাশাপাশি চার গ্রামের ২৯৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   সিরাজগঞ্জ  চৌহালী  যমুনা নদী  নদীভাঙন  চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়  খাষকাউলিয়া  বিদ্যালয়  ২৯৫ শিক্ষার্থী  জিওব্যাগ  পানি উন্নয়ন বোর্ড  স্থায়ী বাঁধ  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  নদীগর্ভে বিলীন 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: