তিস্তার গ্রাসে বসুনিয়াপাড়া, ঘরবাড়ি-বাঁধ-প্রতিষ্ঠান হুমকিতে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে গত ২০ দিনে শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন

2026-09-26T15:50:16+00:00
2026-09-26T15:50:16+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
তিস্তার গ্রাসে বসুনিয়াপাড়া, ঘরবাড়ি-বাঁধ-প্রতিষ্ঠান হুমকিতে
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ পিএম 
তিস্তার গ্রাসে বসুনিয়াপাড়া, ঘরবাড়ি-বাঁধ-প্রতিষ্ঠান হুমকিতে। ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে গত ২০ দিনে শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বসুনিয়াপাড়া এলাকার আরও দুই শতাধিক বাড়িঘর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও মন্দির হুমকির মুখে পড়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া এলাকায় গত ২০ দিন ধরে তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনে ইতোমধ্যে শতাধিক বাড়িঘরসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। এতে নতুন করে আরও দুই শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহুবর রহমান (৬৫) বলেন, গত বর্ষা মৌসুমের আগে কর্পূরা-বসুনিয়াপাড়া রক্ষায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীর স্রোতে সেগুলোও নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে।

একই এলাকার কৃষক আবু বক্কর (৬৫) বলেন, বাড়িঘর সাতবার ভেঙেছে। আবারও নদী বাড়িঘর ভাঙছে। এখন কোথায় যাব, যাওয়ার মতো জায়গা নেই। বউ-মেয়েকে নিয়ে খুব বিপদে আছি। টাকাও নেই, কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।

ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি বরাদ্দ না থাকার কথা জানিয়েছেন। ফখরুল বলেন, আমরা এখন কোথায় যাব? সরকারের কাছে অনুরোধ, নদীভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে এই গ্রামটি বিলীন হয়ে যাবে।


কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, দুই পাশে বস্তা দেওয়া আছে, মাঝখানে প্রায় এক কিলোমিটার অংশে বস্তা ফেলা হয়নি। যেভাবে নদী ভাঙছে, কয়েক দিনের মধ্যে গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। তিস্তার ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে অনেকেই ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন।

ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারা বেওয়া বলেন, হামার বাড়ি ভাঙি যায়া মানুষের জায়গাত আছি। খুব কষ্টে দিন যাপন করছি। সরকার যদি আমার দিকে দেখত, তাহলে ভালো হইত।

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের কথা জানিয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে আরও জিও ব্যাগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   তিস্তার গ্রাসে বসুনিয়াপাড়া  ঘরবাড়ি-বাঁধ-প্রতিষ্ঠান হুমকিতে 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: