শৈলদাহ নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সড়ক, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর ভাঙনে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার

2026-09-26T15:58:23+00:00
2026-09-26T15:58:23+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
শৈলদাহ নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সড়ক, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম 
শৈলদাহ নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সড়ক। ছবি : সময়ের আলো
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর ভাঙনে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ১০ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধের কাজ করছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। তারা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর দৈর্ঘ্য আট কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৪০ মিটার। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ নদীর গতিপথ আঁকাবাঁকা এবং ভাঙনপ্রবণ। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত তীব্র হওয়ায় ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।


ভাঙনে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।

সড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম মোল্লা (৬০) বলেন, নদীভাঙনে তার বাড়িঘর ও জমি বিলীন হয়েছে। এখন সড়কও ভাঙনের কবলে পড়েছে। সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া গ্রামের প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, পানির ট্যাংক, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ভ্যানচালক আনন্দ কীর্তনিয়া (৩৫) ও নূর মোহাম্মদ শেখ (৪৫) বলেন, সড়কের কোথাও ভেঙে গেছে, কোথাও দেবে গেছে। এসব স্থানে ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয়। এতে টায়ার লিক হওয়া, চেইন ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিয়ারিং ও মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। ডুমরিয়া-পাকুরতিয়া যেতে এখন প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। তারা দ্রুত নদীভাঙন ঠেকিয়ে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।


সড়াবাড়ী গ্রামের কলেজছাত্র হৃদয় শেখ (২১) বলেন, নদীভাঙনে তাদের এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে রোগী পরিবহণসহ জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করা হলে সড়কটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

চিথলিয়া গ্রামের গৃহবধূ বাসন্তী মিস্ত্রি বলেন, ভাঙনে আমাদের বসতঘর অনেক আগেই চলে গেছে। এখন জমিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। সরকার বালুর বস্তা ফেলছে, কিন্তু ভাঙন থামছে না। সম্পত্তি রক্ষায় আমরা দ্রুত ভাঙন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, শৈলদাহ নদীর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় শৈলদাহ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   গোপালগঞ্জ  শৈলদাহ  নদীর ভাঙন  সড়ক  দুর্ভোগে  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: