এক কম্পিউটার-ফটোকপি মেশিন থেকে ক্রেস্টের কারখানা

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

একটি কম্পিউটার, একটি ফটোকপি মেশিন আর নিজের কিছু করার অদম্য ইচ্ছা— এই তিন সম্বল নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ছোট্ট

2026-09-27T11:51:59+00:00
2026-09-27T11:54:13+00:00
 
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
এক কম্পিউটার-ফটোকপি মেশিন থেকে ক্রেস্টের কারখানা
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫১ এএম  আপডেট: ২৭.০৯.২০২৬ ১১:৫৪ এএম
নিজ প্রতিষ্ঠানে জিম্মানুল আনোয়ার। ছবি : সময়ের আলো
একটি কম্পিউটার, একটি ফটোকপি মেশিন আর নিজের কিছু করার অদম্য ইচ্ছা— এই তিন সম্বল নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিলেন জিম্মানুল আনোয়ার। শুরুতে কম্পিউটার কম্পোজ, ফটোকপি ও অনলাইনের বিভিন্ন কাজ করেই চলছিল তার ব্যবসা। পরে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী যুক্ত করেন ছবি, মগ ও গেঞ্জি প্রিন্টের কাজ। একসময় শুরু করেন ক্রেস্ট তৈরি। সেই ছোট উদ্যোগই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে নিজস্ব ক্রেস্ট তৈরির কারখানায়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার জামে মসজিদ রোডে এখন রয়েছে জিম্মানুলের ‘প্রিন্ট বাজার’ ও ‘ক্রেস্ট বিলাস’। সেখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে শত শত ক্রেস্ট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইনে আসছে অর্ডার। নকশা ও লেখা চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্রেস্ট তৈরি করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক।

অর্থাৎ যে উদ্যোগ একসময় ছিল নিজের কর্মসংস্থানের চেষ্টা, সময়ের সঙ্গে সেটিই এখন অন্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।


ছাত্রজীবনের স্বপ্ন থেকে উদ্যোক্তা
ছাত্রজীবন থেকেই জিম্মানুলের ইচ্ছা ছিল নিজের কিছু করার। পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই একটা কাজ দাঁড় করানোর চিন্তা থেকেই ব্যবসায় নামেন তিনি।

তবে শুরুটা ছিল সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। অল্প পুঁজি নিয়ে একটি কম্পিউটার ও একটি ফটোকপি মেশিন দিয়েই দোকানে কাজ শুরু করেন। কম্পিউটার কম্পো, ফটোকপি ও অনলাইনের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ছবি প্রিন্টের কাজও করতেন। ব্যবসা ছোট হওয়ায় শুরুতে ক্রেতাও ছিল সীমিত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থেমে যাননি তিনি।

যা আছে, তা দিয়েই কীভাবে আরও কিছু করা যায়— এই চিন্তা থেকেই ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন।

এক কাজ থেকে আরেক কাজে
ক্রেতাদের প্রয়োজন ও বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন নতুন সেবা যুক্ত করেন জিম্মানুল। ছবি প্রিন্টের পর শুরু করেন মগ প্রিন্ট। এরপর গেঞ্জিতে বিভিন্ন লেখা, ছবি ও নকশা প্রিন্টের কাজ। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের এসব কাজ করতে করতে বাড়তে থাকে পরিচিতি।

একপর্যায়ে ক্রেস্ট তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে সীমিত পরিসরে কাজ করলেও ধীরে ধীরে অর্ডার বাড়তে থাকে। তখন এই কাজকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তৈরি করেন নিজস্ব কারখানা।

বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ক্রেস্ট তৈরি করছেন শ্রমিকেরা। প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য নেওয়া হচ্ছে অর্ডার। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নকশা ও লেখা নির্ধারণ করে তৈরি করা হচ্ছে ক্রেস্ট।

অনলাইনের কারণে ত্রিশালের এই ছোট উদ্যোগের পরিধিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা অনলাইনে যোগাযোগ করে অর্ডার দিচ্ছেন। অর্ডার অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নিজের কর্মসংস্থান থেকে ১০–১৫ জনের
ব্যবসা শুরুর সময় দোকানের প্রায় সব কাজই একাই সামলাতেন জিম্মানুল। কম্পিউটার চালানো, ফটোকপি, প্রিন্টিং, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ— সবকিছুই করতে হতো নিজ হাতে। কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে কর্মীর প্রয়োজন। জিম্মানুল বলেন, শুরুতে একাই সব কাজ করতাম। এখন আমার সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ কাজ করছেন। আমার কাছে এটিই বড় পাওয়া। আমি নিজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছিলাম, এখন অন্য কয়েকজনেরও কাজের সুযোগ হয়েছে।

এখনো ধরে রেখেছেন শুরুর দোকান
ব্যবসার পরিধি বাড়লেও শুরুর জায়গাটি ভুলে যাননি জিম্মানুল। ত্রিশাল পৌরসভার জামে মসজিদ রোডের সেই ছোট দোকানটিও এখনো তার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে চলছে কম্পিউটার কম্পোজ, ফটোকপি, মগ প্রিন্ট ও গেঞ্জি প্রিন্টের কাজ। ক্রেস্টের অর্ডার নেওয়া এবং ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও করা হয় সেখান থেকে।

এই দোকানেই দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি ব্যবসা করছেন পল্লী চিকিৎসক ছফির উদ্দিন ও পোশাক বিক্রেতা রেদুয়ান হোসেন। তিনজনের ব্যবসা আলাদা হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা। একজন কোনো কাজে বাইরে গেলে অন্য দুজন তার দোকান ও মালামালের দেখভাল করেন। দোকানের ভাড়াও ভাগাভাগি করে পরিশোধ করেন তারা।

ছোট্ট একটি জায়গায় তিন ধরনের ব্যবসার এই সহাবস্থানও জিম্মানুলের উদ্যোক্তা জীবনের আলাদা একটি অধ্যায়।


শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে
নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে জিম্মানুল আনোয়ার বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার। তাই পড়াশোনা শেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। একটি কম্পিউটার ও একটি ফটোকপি মেশিন দিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি কাজ দিয়ে শুরু করলেও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ধীরে ধীরে নতুন নতুন কাজ যুক্ত করেছি। মগ প্রিন্ট, গেঞ্জি প্রিন্ট করতে করতে পরে ক্রেস্ট তৈরির কাজ শুরু করি। এখন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার আসে।

ব্যবসার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শুরুতেই বড় কিছু হয়ে যাবে— এমনটা নয়। নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে, নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করতে হবে এবং ক্রেতার চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বপ্ন আরও বড় করার
একটি কম্পিউটার ও একটি ফটোকপি মেশিন দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা এখন ক্রেস্ট তৈরির কারখানায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এখানেই থামতে চান না জিম্মানুল। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো, ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণ এবং আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য।

তার এই পথচলা শুধু একজন উদ্যোক্তার ব্যবসা বড় করার গল্প নয়; এটি অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা একটি উদ্যোগ কীভাবে ধীরে ধীরে নিজের পরিধি বাড়িয়ে অন্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সেই গল্পও।

একটি কম্পিউটার ও একটি ফটোকপি মেশিন দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ আজ ক্রেস্ট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। আর জিম্মানুলের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছেন আরও ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   জিম্মানুল আনোয়ার  উদ্যোক্তা  ত্রিশাল  ময়মনসিংহ  ক্রেস্ট কারখানা  ক্রেস্ট তৈরি  প্রিন্টিং ব্যবসা  প্রিন্ট বাজার  ক্রেস্ট বিলাস  কর্মসংস্থান  তরুণ উদ্যোক্তা  ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা  অনলাইন ব্যবসা 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: