নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে অবৈধভাবে ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করছিলো দুষ্কৃতিকারীরা। এসময় নলচিরা নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘের ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা করে হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ইসলাম চর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের নলচিরা নৌঘাটে আনা হয়।
নৌ-পুলিশ ও নলচিরা বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত একটি চক্র সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব ঘেরের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। একই সঙ্গে ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছিল। এতে উন্মুক্ত নদীতে মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় প্রকৃত জেলেরা।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকার অলি উদ্দিন (৩৫), ইব্রাহিম (৩০), মো. মাঈন উদ্দিন (৩৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৬), মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), মইনুদ্দিন (২৭), মো. সেলিম (৩০), মো. সোহেল (২৭), মো. হামিদ (৩০), নূর জামাল, জাফরুল্লাহ জাকের (৪৮), মনির হোসেন (২৫), নূর করিম (২৮) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের মো. বেলাল (২৩), মো. আকবর (২৩), মো. শরীফ (৩০) ও সোহাগ (২৮)। একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া আটক অন্যরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, বহিরাগতরা সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করছিল। এতে বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘের ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা করে হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ ঘের নির্মাণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/আতা