নির্বাচনে অংশগ্রহণ উন্মুক্ত হলেও ছাড়ে কঠোর সরকার

রফিকুল ইসলাম সবুজ

জাতীয়

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের

2026-06-17T01:18:52+00:00
2026-06-17T01:18:52+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
জাতীয়
নির্বাচনে অংশগ্রহণ উন্মুক্ত হলেও ছাড়ে কঠোর সরকার
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:১৮ এএম   (ভিজিট : ৮)
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

একই সঙ্গে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনি বিধিমালায় আনা হচ্ছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। 

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না এবং এ বিষয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থান কী হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সরকার দ্বিমুখী কৌশল বা ‘ছাড়েও কঠোর’ নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার একদিকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত রাখতে চায়, অন্যদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসেবা শক্তিশালী করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে চায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। 

রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য কেবল নির্বাচন আয়োজন নয়; বরং কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সরকারের মতে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। এ কারণেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘাত এড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা কিংবা রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না। নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধিমালার খসড়ায় প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়কে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা হয়নি। 

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনি যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। ফলে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা সমর্থক যদি আইনগতভাবে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হন এবং নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তা হলে তার অংশগ্রহণে সরাসরি কোনো বাধা থাকছে না। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পুনর্বাসন বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হবে না। জনগণের স্বার্থ ও স্থানীয় উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সরকারি মহল থেকে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ যদি সংঘাতের পথ পরিহার করে এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক মনোভাব গ্রহণ করে, তা হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনগত সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হতে পারে। 

তবে কোনো ধরনের সহিংসতা, উসকানি, নাশকতা বা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া মানে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে দুর্বল হওয়া নয়। বরং অংশগ্রহণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীকে হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি নির্দলীয় থাকে না। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দলীয় রূপই নেয়। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় সুযোগ। যদি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সে ক্ষেত্রে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতিতে একটা কামব্যাকের একটা বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে, তাই আইন ও নির্বাচনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারলে ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা কর্মীও যদি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন, তবে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে সরকারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার কারণ নেই। 

তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি দলীয় পরিচয় বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচন হবে ব্যক্তি পরিচয়ের ভিত্তিতে এবং প্রার্থীদের আচরণও সে অনুযায়ী হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সংগঠন হিসেবে দলটি নিষিদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ-পদবি থাকলেও নির্বাচনি প্রচারে তা ব্যবহার করা যাবে না।

/এসএকে


  বিষয়:   নির্বাচন  অংশগ্রহণ  উন্মুক্ত  কঠোর  সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: