ইসলামে মা-বাবার প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও সেবাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্বকে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং আখিরাতের সাফল্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
একজন বাবা সন্তানের জীবনে নিরাপত্তা, আশ্রয় ও নির্ভরতার প্রতীক। সন্তানের বেড়ে ওঠার পেছনে বাবার ত্যাগ, পরিশ্রম ও দুঃশ্চিন্তার ভূমিকা অপরিসীম। ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, এই ত্যাগের মূল্যায়ন করা সন্তানের জন্য ইমানি দায়িত্ব।
আরও পড়ুন
কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, তিনি তাঁর ইবাদতের পাশাপাশি মা–বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের প্রতি কোমল আচরণ, শ্রদ্ধাপূর্ণ ভাষা ব্যবহার এবং কখনো বিরক্তিসূচক শব্দ পর্যন্ত না বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের জন্য দোয়া করার কথাও বলা হয়েছে, যেভাবে তারা শৈশবে সন্তানকে লালন-পালন করেছেন।
হাদিসের আলোকে বাবার মর্যাদাহাদিসে পিতার অবস্থানকে জান্নাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বাবা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা- ইচ্ছা করলে কেউ সেই দরজাকে রক্ষা করতে পারে, আবার অবহেলা করে তা নষ্টও করতে পারে। অর্থাৎ পিতার সন্তুষ্টির সঙ্গে আখিরাতের সফলতা গভীরভাবে সম্পর্কিত।
অন্য হাদিসে এসেছে, পিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত। এই শিক্ষা মুসলিম জীবনে পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
মা-বাবার সেবায় বিশেষ মর্যাদাইসলামে এমনকি পিতামাতার সেবাকে অনেক বড় ইবাদতের সমতুল্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক সাহাবি যখন জিহাদে অংশ নেওয়ার অনুমতি চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে পিতামাতার কাছে ফিরে গিয়ে তাদের সেবা করার নির্দেশ দেন। এতে বোঝা যায়, মা-বাবার খেদমত অনেক ক্ষেত্রে বড় ইবাদতের সমান মর্যাদা রাখে।
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, পিতামাতার দিকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে তাকানোতেও আল্লাহ তাআলা বিশেষ সওয়াব দান করেন—যা কবুল হজের সওয়াবের সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্তানের সম্পদ ও দায়িত্বইসলামী বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্যবান সন্তান তার পিতার প্রয়োজনে সহায়তা করবে। হাদিসে এসেছে, সন্তানের সম্পদে পিতার অধিকার রয়েছে এবং সন্তানদের অর্জিত সম্পদকে পরিবারের কল্যাণে ব্যয় করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বাবার অবাধ্যতা বড় গুনাহইসলামে মা-বাবার অবাধ্যতা কবিরা গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিরকের পরই পিতামাতার অবাধ্যতাকে সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে সতর্ক করেছেন।
এএডি/