পে-স্কেলের ২০ হাজার টাকার কাটছাঁট মানবেন না সরকারি কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কাটছাঁট করা হলে মেনে নেওয়া হবে না

2026-08-15T12:17:08+00:00
2026-08-15T12:18:03+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
পে-স্কেলের ২০ হাজার টাকার কাটছাঁট মানবেন না সরকারি কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ১২:১৮ পিএম
বেতন কাটছাঁট করা হলে সাধারণ কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ছবি : প্রতীকী
নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কাটছাঁট করা হলে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে বাজারমূল্যের প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির চাপ থেকে সরকারি কর্মচারীদের মুক্তি দিতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তারা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে তারা জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সে হিসাবে ৮ হাজার ২৫০ টাকার ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন হয় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। এই সুপারিশ কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারছেন না। নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়বে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দ্রব্যমূল্য এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে তাদের আয়ের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

তবে, সেই দাবির তুলনায় কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ : ৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বৈষম্যের আরেকটি ধাপ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কাটছাঁট করে, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের বর্তমান বৃদ্ধির মধ্যে কোনোভাবেই সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দাবি, সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা নিজেদের ‘কর্মচারীবান্ধব মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাজারমূল্যের প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির চাপ থেকে সরকারি কর্মচারীদের মুক্তি দিতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তারা।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   পে-স্কেল  সরকারি. কর্মচারী  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: