মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে

2026-08-15T12:04:29+00:00
2026-08-15T12:04:54+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ১২:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ল। তাঁর বিশ্বাস, এই উদ্যোগ আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

নতুন ভবন নির্মাণের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করে হাসপাতালটি এখন আরও বড় পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়েই বড় ধরনের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্ট্রোক, মৃগীরোগ, পারকিনসনস, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার চাহিদাও দেশে দিন দিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, নতুন ৫০০ শয্যার ভবনে আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড থাকবে। ফলে শুধু রোগী ভর্তির সক্ষমতাই বাড়বে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অতিরিক্ত শয্যা ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থা দেশের হাজারো রোগীর জন্য আশার আলো হয়ে উঠবে।

তবে শুধু প্রযুক্তি ও অবকাঠামো দিয়ে একটি উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।

রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন— এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক না থাকে, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা কঠিন হবে।

স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত চিকিৎসা শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চল, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসার প্রয়োজন কমাতে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

এ ছাড়া সরকারের মেয়াদকালে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিশুস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ গড়তে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে।

শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করতে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায়। এটি শুধু স্লোগান নয়, বরং দেশের মানুষ যাতে দেশেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা পান, সে লক্ষ্যেই কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে সরকার যত উদ্যোগই নিক না কেন, এর সফলতা নির্ভর করবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপর।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না এবং অর্থের অভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না। দেশের সাধারণ মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  প্রধানমন্ত্রী  হাসপাতাল 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: