মালয়েশিয়া ঘুরে চীন সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে ১৭তম বার্ষিক ‘সামার দাভোসের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথ ধরবেন তিনি। আগামীকাল শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের বৈঠকের হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডব্লিউইএফ'র প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করবে।
তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম আয়োজিত সামার দাভোস ২০২৬ বর্তমানে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে - ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সরকারি প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শীর্ষ ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং করপোরেট নেতৃবৃন্দ অংশ নিচ্ছেন।
সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগদান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সময়ের আলো/কেএইচও