এআই ও ধর্মবিশ্বাস মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্ব

হিশাম গাফার, ইসলামী গবেষক ও বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক

পোপ লিও চতুর্দশ ২০২৬ সালের ১৫ মে তারিখে তার প্রথম মূল প্রবন্ধ ‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস’ স্বাক্ষর করেন। এই তারিখটি কিন্তু আকস্মিক

2026-06-25T03:46:28+00:00
2026-06-25T03:46:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এআই ও ধর্মবিশ্বাস মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্ব
হিশাম গাফার, ইসলামী গবেষক ও বিশ্লেষক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৩:৪৬ এএম  আপডেট: ২৫.০৬.২০২৬ ৩:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পোপ লিও চতুর্দশ ২০২৬ সালের ১৫ মে তারিখে তার প্রথম মূল প্রবন্ধ ‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস’ স্বাক্ষর করেন। এই তারিখটি কিন্তু আকস্মিক বেছে নেওয়া হয়নি। ১৮৯১ সালে প্রকাশিত ‘রেরাম নোভারুম’ নামে পোপের আরেকটি ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশের ঠিক ১৩৫ বছর পূর্তিতে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়। সেই পুরোনো চিঠিতে শিল্পবিপ্লবের যুগের নৈতিক সংকট কারখানা, যন্ত্রপাতি, শ্রমিক শোষণ এবং মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। আজকের নতুন ‘সামাজিক প্রশ্ন’ আর শুধু কারখানা বা যন্ত্রপাতি নয়। এখন তা হলো অ্যালগরিদম বা গণনার নিয়ম।

পোপের স্পষ্ট সতর্কবার্তা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শুধু আরেকটি সাধারণ যন্ত্র বা হাতিয়ার নয়। আগেকার দিনের বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের মতোই এটি আমাদের কাজের ধরন, যুদ্ধ, জ্ঞান, রাজনীতি এমনকি মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচয়ও বদলে দিচ্ছে। এখন প্রশ্নটা আর শুধু এআই কী করতে পারে তা নয় বরং এর মাধ্যমে কেমন পৃথিবী তৈরি হচ্ছে এবং এই পৃথিবী গড়ার পেছনে কাদের মর্যাদা ও অধিকার বলি দেওয়া হচ্ছে, তা জানা জরুরি।

বিশ্বের মুসলিম সমাজেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠছে, যদিও তা কোনো একক কেন্দ্রীয় বক্তব্যের মাধ্যমে নয়। কাতারের দোহায় ইসলামি নীতি ও নৈতিকতার গবেষকরা প্রযুক্তি ব্যবহারের দায়িত্ব ও নৈতিক দিকগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন। মালয়েশিয়ায় নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইসলামি মূলনীতিগুলো যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। 

ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল জীবন, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ধর্মীয় মতামত এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খ্রিস্টান ও ইসলামি চিন্তাধারা একই ভাষায় কথা না বললেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয়ের মতামত মিলে যায়। তা হলো, মানুষকে শুধু সংখ্যা বা তথ্য, উৎপাদনক্ষমতা বা কাজের উপযোগিতায় পরিণত করা যাবে না।

খ্রিস্টান মতবাদ অনুযায়ী, মানুষের মর্যাদা এই বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে মানুষ স্রষ্টার নিজস্ব রূপে সৃষ্ট। এই মর্যাদা কোনো দক্ষতা, বুদ্ধি বা অর্থনৈতিক মূল্য দিয়ে অর্জন করার বিষয় নয়। কোনো একটি যন্ত্র গণনা করতে পারে, ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে বা মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার করতে পারে কিন্তু তার কোনো বিবেক বা নৈতিক দায়িত্ববোধ থাকে না।
ইসলামি চিন্তাধারাও ভিন্ন পথে গিয়ে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এখানে ‘তাকরিম’ বা আদম সন্তানের সম্মান, ‘খিলাফাহ’ বা পৃথিবীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধিত্ব এবং ‘আমানাহ’ বা বিশ্বস্ততার মতো মূলনীতি কাজ করে। মানুষ কখনোই তার নৈতিক দায়িত্ব কোনো যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিতে পারে না। কারণ মানুষের দায়বদ্ধতা থাকে, যন্ত্রের নয়।

প্রযুক্তির মালিকানা কার : এখানেই ইসলামি মতবাদ প্রযুক্তিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেয়। ‘তাওহিদ’ বা আল্লাহর একত্ববাদ শুধু উপাসনার বিষয় নয়। এটি এমন সব বস্তু বা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তাও, যাদের অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভেবে ভুল করা হয়।

শুধু স্রষ্টাই অসীম ও চূড়ান্ত। তাই কোনো প্রযুক্তি, বাজার বা অ্যালগরিদম কখনোই নিয়তি বা অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না। এআই মানুষের তৈরি একটি হাতিয়ার। এটি এমন উপাস্য বস্তু হয়ে উঠতে পারে না, যার সামনে পুরো সমাজ নিজের বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। তবে বিষয়টা শুধু দার্শনিক নয়, রাজনৈতিকও। 
আসল প্রশ্নগুলো হলো, এই প্রযুক্তির মালিক কে? তথ্যগুলো কার নিয়ন্ত্রণে? লাভের অংশ কারা পাচ্ছেন? আর এর পেছনে যে মানবিক ক্ষতি হচ্ছে, তার দায় কে নিচ্ছে? 

এই ক্ষেত্রে খ্রিস্টান সামাজিক শিক্ষা আরও স্পষ্টভাবে কাঠামোগত সমালোচনা তুলে ধরে। পোপ লিও চতুর্দশ এআইকে শ্রম, পুঁজি ও বৈষম্যের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। তার সতর্কবার্তা হলো, এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বড়  বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, যাদের সম্পদ অনেক দেশের সরকারের চেয়েও বেশি। তথ্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, পেটেন্ট ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এখন নতুনভাবে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর সম্পদ হয়ে উঠছে।

বিপদটা শুধু কোনো ব্যক্তি ভুলভাবে এআই ব্যবহার করবেন তা নয় বরং এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যেখানে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানই জ্ঞান, কাজ ও সামাজিক পরিচিতি নির্ধারণের নিয়ম তৈরি করছে। এই বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এআইব্যবস্থা তৈরির জন্য পুরো পৃথিবী থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হ কিন্তু লাভ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে সীমিত কয়েকটি দেশের হাতে। বাংলা, আরবি, মালয় বা ইন্দোনেশীয় ভাষার তথ্য ইংরেজির তুলনায় খুবই কম পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমা দেশের তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তৈরি সাংস্কৃতিক ধারণাগুলো পরে ‘নিরপেক্ষ প্রযুক্তি’র  ছদ্মবেশে মুসলিম সমাজেও প্রয়োগ করা হয়।

কিন্তু এটা মোটেও নিরপেক্ষতা নয়। এটি জ্ঞান ও চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি করছে। ইসলামি নৈতিকতার ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট শক্তি ও নীতি রয়েছে। ‘মাকাসিদ’ নীতি অনুযায়ী কোনো কাজ বা প্রযুক্তি ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, পরিবার, সম্পদ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার রক্ষা করছে কি না বা ক্ষতি করছে কি না সে বিচার করা হয়। প্রাচীন ইসলামি আইনেও জনসাধারণের স্বার্থ, একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ, ক্ষতি এড়ানো ও শ্রমিকের অধিকারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ন্যায়বিচারের প্রশ্ন : নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সম্পদ সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়ার নীতি আজকের ডিজিটাল জগতেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। যেমন তথ্য, অ্যালগরিদম ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, যা এখন সমাজের জীবন প্রভাবিত করছে।

তবে বর্তমানে ইসলামি আলোচনাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু এআই ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে সীমাবদ্ধ। এই কাজটি বৈধ কি না, চ্যাটবট দিয়ে ধর্মীয় পরামর্শ নেওয়া যাবে কি না, অর্থনীতি, চিকিৎসা বা শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যাবে কি না ইত্যাদি। এই প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট নয়। আসল প্রশ্নটা হলো শুধু মুসলমানরা এআই ব্যবহার করতে পারবে কি না তা নয় বরং এআই কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বর্তমান ব্যবস্থাটি কি ন্যায়সংগত?

এআইব্যবস্থার সুন্দর বাহ্যিক রূপের পেছনে অসংখ্য অদৃশ্য শ্রমিক কাজ করছেন। তথ্য সাজানো, হিংসাত্মক বিষয়বস্তু বাছাই করা, যন্ত্রটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মানসিক চাপ বহন করা। তাদের বেশিরভাগই তরুণ, অল্প বেতনে কাজ করছেন এবং গরিব দেশগুলোতে বাস করছেন।

স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সুবিধার পেছনে লুকিয়ে আছে খনিজ সম্পদ, বিপুল পরিমাণ শক্তি ব্যবহার, নজরদারিব্যবস্থা, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের চুক্তি এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য। ইসলামি নৈতিকতা যদি সত্যিই ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেয়, তবে তাকে শুধু যন্ত্রটি কী বলছে তা দেখবে না বরং এই যন্ত্রটি চালু রাখার পেছনে কাদের শ্রম ও কাদের কষ্ট কাজ করছে, তাও বিবেচনা করবে।


এ ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা একটি ভালো দিক। সেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিতভাবে নতুন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নাহদলাতুল উলামা, মুহাম্মাদিয়া ও ইন্দোনেশিয়ান উলেমা পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাজ করছেন। মালয়েশিয়ার ঐতিহ্য থেকে পাওয়া যায় গভীর দার্শনিক চিন্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ। আর কাতারের গবেষণা কেন্দ্রগুলো নৈতিক দায়িত্ব ও বিচারবোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন।

আলোচনার বিভক্তি : সমস্যাটা এই নয় যে চিন্তা বা আলোচনার অভাব আছে বরং সমস্যা হলো তা ছড়িয়ে ও বিভক্ত হয়ে আছে। খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে পোপ ও একক ঐতিহ্যের মাধ্যমে সামাজিক নীতি প্রকাশ পায়। কিন্তু সুন্নি ইসলামের ক্ষেত্রে কোনো একক কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই। তাদের জ্ঞান ও চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন পণ্ডিত, প্রতিষ্ঠান ও অঞ্চলের মধ্যে।

একক কেন্দ্র না থাকা অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু মুসলিম সমাজ যদি এই বৈচিত্র‍্য বিভ্রান্তি না ভেবে এক মুক্ত ও ব্যাপক নৈতিকব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেন, তবে এটি শক্তিতে পরিণত হতে পারে। চ্যালেঞ্জটা কোনো ইসলামি ‘পোপ’ তৈরি করা নয়। এটা ঐতিহ্যগত মূলনীতি ভুল বোঝাবে। আসল কাজ হলো একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত নৈতিক আলোচনা গড়ে তোলা। যেখানে আরব দেশের গবেষণা, মালয়েশিয়ার নীতি ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে শ্রমিক, অভিবাসী, নারী, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা যুক্ত হবে।

এআই প্রযুক্তি খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় ঐতিহ্যকেই একই সত্যের মুখোমুখি করছে। তা হলো, মানবিক মর্যাদা কোনো বিমূর্ত শব্দ নয়। যেখানে ক্ষমতা অদৃশ্য হয়ে যায়, সেখানেই এর পরীক্ষা হয়। যখন কোনো শ্রমিককে তার বোধগম্য নয় এমন নিয়ম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যখন কোনো শরণার্থীকে শুধু সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়, যখন কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যের ওপর তৈরি প্রযুক্তি দিয়ে নির্ধারণ করা হয় এবং যখন যুদ্ধের মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কোনো যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় তখনই মানবিক মর্যাদার প্রকৃত পরীক্ষা হয়।

মানব মর্যাদার পরবর্তী অধ্যায় শুধু গির্জা, মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে লেখা হবে না। এটা লেখা হবে সেখানেই, যেখানে ধর্মীয় ও নৈতিক চিন্তা সাহসের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির মুখোমুখি দাঁড়াবে। প্রযুক্তিকে উপাস্য হিসেবে নয়, শুধু ভয়ও নয় বরং দৃঢ়ভাবে এই দাবি জানাবে যে কোনো যন্ত্র, বাজার বা ক্ষমতাশালী প্রতিষ্ঠানের এতটা অধিকার নেই যে সে মানুষকে শুধু একটি তথ্যের ফাইলে পরিণত করে দেবে।

সময়ের আলো/আআ





  বিষয়:   মুসলিম  ইসলাম  গবেষণা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: