মাদক প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, কেবল গ্রেফতার করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। যুবসমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসন ও সরকারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ নাগরিকদেরও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে সংসদে এ সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ধারাবাহিক সামাজিক কর্মসূচি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
তিনি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মাদক চোরাচালান ও পাচার রোধে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, সিভিল সার্জন ড. মিজানুর রহমান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর পঞ্চগড়ের সহকারী পরিচালক রাহুল সেন, ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধি এবং জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ডেন্ট ফরিদ রহমানসহ বিভিন্ন দফতরের পদস্থ কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। তাই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রকে রুখতে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে তৃণমূল পর্যায় থেকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
সময়ের আলো/জোই