যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দিনের হামলায় খাদের কিনারায় ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর সমস্ত চেষ্টা কি তবে ভেস্তে যেতে বসেছে? গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক-এর আওতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বুড়ো

2026-06-28T09:21:46+00:00
2026-06-28T09:21:46+00:00
 
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দিনের হামলায় খাদের কিনারায় ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:২১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর সমস্ত চেষ্টা কি তবে ভেস্তে যেতে বসেছে? গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক-এর আওতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার অজুহাতে শনিবার (২৭ জুন) গভীর রাতেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় এই হামলা চালায়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন মারমুখী অবস্থানে যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

হামলার মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় ইরানকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প কঠোর ভাষায় লিখেছেন, হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন আমরা আর সংযম দেখাতে পারব না। যে কাজটা আমরা সফলভাবে শুরু করেছিলাম, সামরিক শক্তি দিয়ে তা শেষ করতে বাধ্য হব। আর তেমনটা ঘটলে, মানচিত্র থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্ব মুছে যাবে!

তিনি অভিযোগ করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। যদিও তেহরানও পাল্টা ওয়াশিংটনের দিকেই চুক্তি ভঙ্গের আঙুল তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে মার্কিন যৌথ হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিয়েছিল তেহরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হলে চাপ সামলাতে গত ১৭ জুন একটি ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হয়। চুক্তির ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ইরান মনে করে তাদের জলসীমা বা ওমানের জলসীমা— যেকোনো দিক দিয়ে জাহাজ গেলেই তেহরানের অনুমতি নিতে হবে।

কিন্তু আমেরিকার দাবি, ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া জাহাজের জন্য ইরানের অনুমতির প্রয়োজন নেই। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং দুই পক্ষের চরম অবিশ্বাসের কারণেই নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় ইরানের নজরদারি পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন ও মাইন রাখার ডিপো লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানা করা হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের তাহরুই গ্রাম, সিরিক বন্দর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্বেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার এই আগ্রাসনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে শান্তি আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্পের এই একক সিদ্ধান্ত নিয়ে খোদ আমেরিকার ভেতরেই তীব্র রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। গত মঙ্গলবারই মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব পাস হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি বাধ্যতামূলক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে তোয়াক্কা না করায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলা সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প যদি এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ না করেন, তবে আমরা তাকে আদালতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হব।


সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: