তুরাগ নদ থেকে গত দুই দিনে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা তার অঙ্গসংগঠনের কোনো মিছিলের সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নদীতে পড়ে মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা জেলা পুলিশ পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায়। বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে পুরান ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
তিনি বলেন, তুরাগ নদে ভাসমান সাতটি লাশ সংক্রান্ত যে তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ গুজব। রাজনৈতিক রং জড়িয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
দুই দিনে তিন লাশ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেছেন, গত ২৬ জুন আশুলিয়ার গরুহাটা ঘাট থেকে অজ্ঞাতনামা একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের পকেটে থাকা মোবাইলের সূত্র ধরে তার ভাই সালাহউদ্দিনকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের নাম সুমন (১৭)। তিনি ডিএমপির তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় তার ভাই সালাহউদ্দিন একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। অপমৃত্যুর মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সুমন গত ২২ জুন দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। ওইদিন নৌকা ভ্রমণ শেষে বিকালে আশুলিয়ার ধৌউর ব্রিজ ঘাটে নৌকা থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় নদীতে ডুবে যায় সুমন। তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। পরে ২৬ জুন রাতে আশুলিয়া নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আওয়ামী লীগের দাবি ও পুলিশের : এই মরদেহগুলো উদ্ধারের পর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়ায় নৌকায় থাকা দলটির নেতাকর্মীরা নদীতে পড়ে মারা গেছেন। ২৬ জুন থেকে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন ফটোকার্ড সোশ্যালে ভাইরাল হয় এবং আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেও এই প্রচারণা চালানো হয়। তবে ২৭ জুনই পুলিশ সদর দফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি অস্বীকার করে।
গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা : এদিকে, রোববার বিকেলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের আওতাধীন তুরাগ থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো ধারাবাহিক মৃতদেহ উদ্ধার বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে তুরাগ থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়নি।
তিনি সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া যেকোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। গুজবকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সময়ের আলো/আআ