ইনুর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা

2026-06-30T09:42:29+00:00
2026-06-30T09:42:29+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
আইন-আদালত
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যাসহ ৮ অভিযোগ
ইনুর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে।

মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশনাসহ মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইনুর আইনজীবীরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে তার খালাস চেয়েছেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মামলায় শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে ২ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় গত ১৩ মে। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয় এবং গত ২২ জুন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন (৩০ জুন) ধার্য করেন।

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি গুরুতর অভিযোগ হলো:
১. উসকানিমূলক সাক্ষাৎকার: ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ ও হত্যার উসকানি দেওয়া।
২. ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘দেখামাত্র গুলি’ (শুট অ্যাট সাইট) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সায়, প্ররোচনা ও সহায়তা করা।
৩. আন্দোলনকারীদের তালিকা ও নির্যাতন: ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের আটক ও নির্যাতন করতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে নির্দেশ দেওয়া।
৪. মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা: আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং হেলিকপ্টার থেকে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করা।
৫. নিপীড়নকে সমর্থন: গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে কৌশলে বৈধতা দেওয়া।
৬. জামায়াত নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত: ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৭. টেলিফোনে ষড়যন্ত্র: ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা।
৮. কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা ও গণহত্যামূলক নির্দেশনা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনসহ ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া। এছাড়া, দেশজুড়ে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত থাকা।


সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   মানবতাবিরোধী অপরাধ  ইনু 


Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: