নাশকতার মামলায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখাল না আদালত

আদালত প্রতিবেদক

আইন-আদালত

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার

2026-08-16T20:55:04+00:00
2026-08-16T20:55:04+00:00
 
  শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
আইন-আদালত
নাশকতার মামলায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখাল না আদালত
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম 
নাশকতার মামলায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখাল না আদালত । ছবি : সংগৃহীত
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। আসামির আইনজীবী আল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এ মামলায় গত ৭ আগস্ট মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন গত ১০ আগস্ট। ওই দিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আল-আমিন সেদিন আদালতে বলেন, ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান? কারাগারে থেকে কীভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক মেজর সাদিক জড়িত, এ বিষয়ে ভাটার থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রোববার ব্যাখ্যা দিতে বলেন আদালত। সেই মোতাবেক ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলী লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন। বিচারক লিখিত বক্তব্য পড়ে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্তে জানা গেছে, সন্দিগ্ধ আসামি চাকুরিচ্যুত সাবেক মেজর সাদিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরীরত থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী ভাটারা এলাকা সংলগ্ন কেবি কনভেনশন হলের ২য় তলার হল রুমের ভেতর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের একত্রিত করে একটি গোপন সভা করেন। সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি বিষয়ক আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্রিত হন। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় ১৩ জুলাই সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তিনি তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসাবে কারাগারে আছেন।


আরও বলা হয়, সাবেক মেজর সাদিক প্রধান প্রশিক্ষক এবং কানেক্টরের ভূমিকায় থেকে রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচল সি-সেল নামক রিসোর্ট, কাটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএসসহ উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে ২ নং গেট সংলগ্ন তার স্ত্রী সুমাইয়া যাফরিনসহ তার ফ্ল্যাট বাসায় একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলেন।

এ ধরনের গোপন সভা, প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হলেও অনেকে গ্রেপ্তার হয়নি। যার ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পলাতক নেতা কর্মীরা মেজর সাদিকের ওই সভা থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয় এবং আসামির পূর্বের নির্দেশনা, অর্থায়নে ও মদদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে মামলার ঘটনার তারিখ ও সময় বাদীর গাড়ি পোড়ায়। এজন্য সন্দিগ্ধ আসামি মেজর সাদিকেরর এ মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য গোপন ও প্রকাশ্যে তদন্তে পাওয়া যায়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়। আসামি মেজর সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তদন্তে এ ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে প্রাইভেট কার রেখে বাসায় গিয়েছিলেন মনির হোসেন নামে একজন। পরে গাড়িটিতে আগুন লাগার খবরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনির হোসেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩ নভেম্বরের ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে পারেন। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তখন ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। সেখানে কারো নাম তুলে না ধরে ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করেন।

সময়ের আলো/টিকে
  বিষয়:   নাশকতা  মামলা  মেজর সাদিক  গ্রেফতার  আদালত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: